দেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পদ্মা নদীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশাল এক ব্যারাজ। সম্প্রতি একনেক সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পটিকে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশায় এই ব্যারাজটি নির্মাণ করা হবে। ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট এবং ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০২৬ সালের জুলাই থেকে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করবে, যা ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৩৬ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সুফল পাবে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলা। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, পাবনা ও পিরোজপুরসহ ১৯টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সরাসরি এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে, যা কৃষি সেচ ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য যে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনাটি বেশ পুরনো। ১৯৬০-এর দশকে ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ শুরু করলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং ১৯৬১ সালে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশকের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমান সরকার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























