রাজধানী ঢাকার বাইরে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত বিলের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ধামরাইয়ের মতো শিল্প ও ঘনবসতিপূর্ণ জনপদসহ সারাদেশে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, যেখানে গ্রাহকরা চড়া মূল্য পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
ধামরাইয়ের পাঠানতোলা এলাকার ওয়াদুদুর রহমান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা রেকর্ড পরিমাণ বিল পরিশোধ করেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, কোনো কোনো দিন আরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। এই ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া, শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উৎপাদনেও ব্যাপক ধস নেমেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের আব্দুল হান্নানের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তিনি জানান, তাদের পুরো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। মে মাসে যেখানে বিল ছিল এক হাজার ২০০ টাকা, জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯০০ টাকায়। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার মধ্যেই ভৌতিক বিলের বিড়ম্বনা নিয়েও তিনি অভিযোগ করেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার পেঁয়াজচাষিরা জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে এয়ারফ্লো মেশিনগুলো দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকায় বাম্পার ফলন হওয়া পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, যা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট নয়। একই অভিযোগ করেছেন মুন্সীগঞ্জ, রংপুর ও চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলার আলুচাষিরা, যেখানে লোডশেডিংয়ের কারণে কোল্ড স্টোরেজগুলোও সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার ঢাকাকে আলোকিত রাখলেও দেশের বিস্তৃত এলাকা যেন অন্ধকারে নিমজ্জিত।
রিপোর্টারের নাম 

























