সাবঅল্টার্ন বা নিম্নবর্গ তত্ত্ব নিয়ে বর্তমান সময়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। ইতালীয় তাত্ত্বিক আন্তোনিও গ্রামশির এই ধারণাটি মূলত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একদল বুদ্ধিজীবী নিম্নবর্গ বলতে কেবল অর্থনৈতিকভাবে শোষিত শ্রেণিকে বুঝিয়ে থাকেন। অথচ যারা সাংস্কৃতিকভাবে প্রান্তিক এবং যাদের চিন্তা ও কণ্ঠস্বরকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে, তারাও যে সাবঅল্টার্ন—এই বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রবাদী চিন্তা বা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে আছেন। বিগত সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের নিজস্ব মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত করে রাখা হয়েছে। একদল তথাকথিত উচ্চবর্গীয় বুদ্ধিজীবী নিজেদের আধুনিক ও প্রগতিশীল দাবি করে অন্যদের প্রান্তিক বা ‘সাবঅল্টার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছেন। অথচ নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলেই তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাদির উদাহরণ টেনে বলা যায়, তিনি যখন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতি ও নজরুলের চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন তাকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। নিজস্ব ভাষা ও জীবনাচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লড়াই যারা করছেন, তাদের আজও ‘বিদ্যাবান’ শ্রেণির বাঁকা কথা শুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশের অকৃত্রিম সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হলে এই আধিপত্যবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 
























