বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় প্রশ্ন হলো—কেন প্রায় প্রতিটি সরকারই ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী বা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ে? এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সীমাবদ্ধতা নয়, বরং একটি গভীর সমাজতাত্ত্বিক সংকট। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন আদর্শ ও নেতৃত্বের সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর তাদের মধ্যে বিরোধী শক্তিকে দমন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ এবং সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সমস্যার মূলে রয়েছে রাষ্ট্রের বিশেষ কাঠামো এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে আমরা যে রাষ্ট্রযন্ত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, তা মূলত জনগণকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজকে শাসন করার সেই পুরনো কাঠামো স্বাধীনতার পরেও খুব একটা বদলায়নি। ফলে ক্ষমতায় আসা দলগুলো এই শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রলোভন সামলাতে পারে না।
আরেকটি বড় কারণ হলো ‘উইনার-টেকস-অল’ বা বিজয়ী পক্ষই সব পাবে—এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাংলাদেশে নির্বাচন মানে কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ। ক্ষমতায় থাকা মানেই প্রশাসন ও অর্থের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য, আর ক্ষমতা হারানো মানেই প্রায়শই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অস্তিত্বের সংকট। এই নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষমতার লড়াই সরকারগুলোকে ক্রমাগত ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তির শাসনকে শক্তিশালী করতে প্ররোচিত করে।
রিপোর্টারের নাম 























