ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বন্ধের আশঙ্কায় লাখো মানুষের ভরসার ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ পরিষেবা

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঝরাতে চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার? পরিচিত কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যাচ্ছে না? এমন সংকটে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা লাখো মানুষের ভরসা টেলি-স্বাস্থ্যসেবা ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩’। সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসক ও হাসপাতাল-সংক্রান্ত তথ্য, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে গত এক দশকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লাখো লাখো মানুষকে সেবা দিয়েছে এ হেল্পলাইন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়, যখন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সরাসরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন ঘরে বসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সেবা পাওয়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে এ প্রতিষ্ঠান।

তবে, টানা ২২ মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন বন্ধ থাকায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে একসময় লাখো মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই সেবাটি। এর ফলে সেবার মান ও কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। অনেক সেবাগ্রহীতা ফোন করেও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মিলছে না সাড়া। সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এই সেবাটি কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে, সেবা অব্যাহত রাখতে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) ই-হেলথ কার্যপরিকল্পনার অধীনে ২০১৫ সালে এই সেবা কার্যক্রম চালু হয়। চুক্তির মাধ্যমে এই সেবা পরিচালনার দায়িত্ব পায় সিনেসিস আইটি লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গত ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনো নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। সরকারের কাছ থেকে অর্থ না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে জনবল প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সেবার মানের ওপর। এর ফলে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার অসংখ্য মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থায়নের সংকট, চুক্তি নবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জনস্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধির…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে স্কুলশিক্ষককে রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা

বন্ধের আশঙ্কায় লাখো মানুষের ভরসার ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ পরিষেবা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঝরাতে চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার? পরিচিত কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যাচ্ছে না? এমন সংকটে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা লাখো মানুষের ভরসা টেলি-স্বাস্থ্যসেবা ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩’। সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসক ও হাসপাতাল-সংক্রান্ত তথ্য, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে গত এক দশকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লাখো লাখো মানুষকে সেবা দিয়েছে এ হেল্পলাইন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়, যখন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সরাসরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন ঘরে বসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সেবা পাওয়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে এ প্রতিষ্ঠান।

তবে, টানা ২২ মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন বন্ধ থাকায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে একসময় লাখো মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই সেবাটি। এর ফলে সেবার মান ও কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। অনেক সেবাগ্রহীতা ফোন করেও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মিলছে না সাড়া। সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এই সেবাটি কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে, সেবা অব্যাহত রাখতে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) ই-হেলথ কার্যপরিকল্পনার অধীনে ২০১৫ সালে এই সেবা কার্যক্রম চালু হয়। চুক্তির মাধ্যমে এই সেবা পরিচালনার দায়িত্ব পায় সিনেসিস আইটি লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গত ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনো নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। সরকারের কাছ থেকে অর্থ না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে জনবল প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সেবার মানের ওপর। এর ফলে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার অসংখ্য মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থায়নের সংকট, চুক্তি নবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জনস্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধির…