ভারতের হাই-টেক লেজার ওয়াল, থার্মাল ক্যামেরা এবং উন্নত সীমান্ত সড়কের বিপরীতে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের ভরসা এখনো ভাঙা সাইকেল এবং দীর্ঘ কাদা-পানির পথ। যেখানে একটি বিওপির বিপরীতে ভারতের তিনটি ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, সেখানে জনবল ও অবকাঠামোগত চরম ঘাটতি নিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে বিজিবি।
রাতের অন্ধকারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) লাইট বন্ধ করে পুশইন করার চেষ্টা বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জিরো লাইনে অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাগুলোর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো বিজিবি সদস্যদের রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। গত ২০ থেকে ২৪ জুন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী, বড়াইবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের গিদালদাহ, কদমতলা ও মাইনকারচর বিএসএফ ক্যাম্পের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাটের দীঘলটারী, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ও বুড়িমারী সীমান্তের ওপারে রানীনগর এবং চ্যাংড়াবান্ধা ক্যাম্প, জয়পুরহাটের হাটখোলা-কয়া এবং নওগাঁর পোরশা ও নীতপুর সীমান্তের বিপরীতে হিলি, বালুরঘাট, হামজাপুর এবং বামনগোলা ক্যাম্প থেকে বিএসএফের কড়া নজরদারি চালানো হয়। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা, তেঁতুলিয়া ও আজিজনগর সীমান্তের বিপরীতে ফুলবাড়ী, ফাঁসিদেওয়া ও চোপড়া ক্যাম্প এবং ঠাকুরগাঁওয়ের কান্তিভিটা, ধর্মগড় ও ডাবরী সীমান্তের বিপরীতে ইসলামপুর এবং ডালখোলা বিএসএফ ক্যাম্পের অবস্থানও বেশ শক্তিশালী।
ভারতের সুপরিকল্পিত অবকাঠামোর বিপরীতে বাংলাদেশের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত সড়কের অভাব এবং কাদা-পানির কারণে বিজিবি সদস্যদের টহলে চরম বেগ পেতে হয়, যা সীমান্ত সুরক্ষায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিবি রংপুর উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নের গণমাধ্যম শাখা তাদের এই সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, বর্তমান সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় আন্তরিক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন। তবে সীমান্তের পাশে চলাচলের জন্য রাস্তাগুলো সংস্কার করে পাকা করা হলে এবং যানবাহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলে সীমান্ত পাহারা দেওয়া আরও সহজ হতো বলে তারা মনে করে।
রিপোর্টারের নাম 

























