রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার কক্ষে সেফটি ট্যাংক থেকে নির্গত গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন ফার্নিচার শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে একজনের শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাকি দুজনের অবস্থাও গুরুতর।
বুধবার রাতে কলাবাগান থানার ৪৪/এ, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট-সংলগ্ন আবুল বাশারের সাততলা ভবনের নিচতলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন— ২০ বছর বয়সী মো. জুয়েল, তার চাচাতো ভাই ২১ বছর বয়সী মো. পারভেজ এবং রানা মিয়া। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে আসা কাঁঠালবাগানের একটি ফার্নিচার দোকানের মালিক রাজি জানান, জুয়েল তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় তার বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে থাকায় বুধবার রাতে কাজ শেষে জুয়েল, পারভেজ ও রানা ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তারা তিনজনই আগুনে দগ্ধ হন।
রাজি আরও জানান, কক্ষটি সেফটি ট্যাংকের ওপর নির্মিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষে গ্যাস জমে ছিল এবং তারা মশার কয়েল জ্বালানোর জন্য ম্যাচ জ্বালাতেই সঞ্চিত গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের একপাশের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা খুলে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রানা মিয়ার শরীরের ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জুয়েলের শরীরের ৩০ শতাংশ এবং পারভেজের শরীরের ২১ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ তিনজনেরই বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















