মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৬ সালে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি আগে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেও, নতুন মূল্যায়নে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। বুধবার প্রকাশিত আইএমএফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গাজা, লেবানন ও ইরানে চলমান সংঘাত ইসরায়েলের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, বারবার ধাক্কা সামলেও ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা দেখালেও, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার কারণে আগামী দিনগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে থাকবে।
প্রতিবেদনে আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, ‘উচ্চমাত্রার আঞ্চলিক উত্তেজনা ইসরায়েলের অর্থনীতির ওপর কালো ছায়া ফেলছে।’ একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা আবারও বেড়ে গেলে তা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। যদিও মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলি মুদ্রা শেকেল তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে, যা সাধারণত আমদানি ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
এর আগে গত মার্চ-এপ্রিল মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। অন্যদিকে, দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় আশা করছে, চলতি বছরে অর্থনীতি প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ শতাংশের মধ্যে স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছে। এই পূর্বাভাস গত ১০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















