ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

গাঁজা বিক্রির অভিযোগে দাউদকান্দি থানার ওসি প্রত্যাহার

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জব্দ করা ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ বারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

থানার একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান তল্লাশি করেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান। এ সময় তিনটি বস্তায় প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই গাঁজা জব্দ না করে রাতেই কয়েকজন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজার বস্তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া, কাভার্ডভ্যানটি ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সূত্রের দাবি, প্রতি কেজি গাঁজা প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই রাতে ফায়ার সার্ভিসের সামনে কাভার্ডভ্যান আটক করে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নেওয়ার পর এসআই ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির আনাগোনাও ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, “আমি ওই রাতে নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।”

এর আগে দাউদকান্দি থানার ওসি এমএ বারী অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে তার কিছু বলার নেই। দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওসির প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানকে হারিয়ে স্বস্তিতে আনচেলত্তি: ‘ধৈর্য হারাইনি, এটাই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স’

গাঁজা বিক্রির অভিযোগে দাউদকান্দি থানার ওসি প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জব্দ করা ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ বারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

থানার একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান তল্লাশি করেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান। এ সময় তিনটি বস্তায় প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই গাঁজা জব্দ না করে রাতেই কয়েকজন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজার বস্তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া, কাভার্ডভ্যানটি ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সূত্রের দাবি, প্রতি কেজি গাঁজা প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই রাতে ফায়ার সার্ভিসের সামনে কাভার্ডভ্যান আটক করে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নেওয়ার পর এসআই ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির আনাগোনাও ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, “আমি ওই রাতে নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।”

এর আগে দাউদকান্দি থানার ওসি এমএ বারী অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে তার কিছু বলার নেই। দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওসির প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।