ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে নিহত একজনের লাশ দাফনের পর তৃতীয় দিনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার রাতের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই উভয় পক্ষ পুনরায় মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাক, বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন আটকা পড়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। ঘটনাস্থলে কয়েক শতাধিক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং সরাইল থানার ওসি মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীকচ্ছে অবস্থিত আঞ্চলিক বিজিবি সদর দপ্তর ও সরাইল বিজিবি ব্যাটালিয়নের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করায় পরিস্থিতি থমথমে ছিল। কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়।
সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন এবং দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন। এর আগে সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সংঘর্ষে নিহত হাদিম মিয়ার লাশ দাফন করা হয়। এরপরই ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত লোক কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪৫) ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে বল্লমের আঘাতে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল হকের ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন।
রিপোর্টারের নাম 






















