ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সুদহার বৃদ্ধি সত্ত্বেও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি: লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর মুদ্রানীতি এবং নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বজায় রাখা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতিকে ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই স্বীকার করেছে যে, সরকার ও তাদের গৃহীত নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। এর পেছনে দুর্বল বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের চাপকে দায়ী করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় এই চিত্র তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এলেও তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে ছিল। তাই চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়েও একই ধরনের কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা হয়। তবে এরপরও চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠে যায়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের অর্থনীতি ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি প্রায় পুরোটা সময় ৯ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের ধাক্কা থেকেই এই দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির সূত্রপাত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ। কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে ২০২৬ সালের মার্চে এটি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসে। তবে সেই ধারা স্থায়ী হয়নি; মে মাসে আবার মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাদ্যের পাশাপাশি পরিবহন এবং আবাসন-জ্বালানি খাতও মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এক বছরে পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ৭৩ বিনিয়োগকারীর অভিযোগে লাপাত্তা ওয়াহিদুল

সুদহার বৃদ্ধি সত্ত্বেও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি: লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় : ১২:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর মুদ্রানীতি এবং নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বজায় রাখা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতিকে ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই স্বীকার করেছে যে, সরকার ও তাদের গৃহীত নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। এর পেছনে দুর্বল বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের চাপকে দায়ী করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় এই চিত্র তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এলেও তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে ছিল। তাই চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়েও একই ধরনের কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা হয়। তবে এরপরও চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠে যায়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের অর্থনীতি ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি প্রায় পুরোটা সময় ৯ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের ধাক্কা থেকেই এই দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির সূত্রপাত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ। কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে ২০২৬ সালের মার্চে এটি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসে। তবে সেই ধারা স্থায়ী হয়নি; মে মাসে আবার মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাদ্যের পাশাপাশি পরিবহন এবং আবাসন-জ্বালানি খাতও মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এক বছরে পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।