মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর শিকারমঙ্গল গ্রামে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারি খাল ভরাটের মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত খাল খনন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই প্রভাবশালী একটি চক্র এই জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী জলিল সরদার, আলমগীর খান ও জাহাঙ্গীর খান তাদের বাড়ির পাশে থাকা একটি সরকারি খাল বালু দিয়ে ভরাট করছেন। এ কাজে ড্রেজার বা বালু উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছেন ‘বালুখেকো’ হিসেবে পরিচিত বিমান মুন্সি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ও বালু কেটে দেদারসে ফেলা হচ্ছে সরকারি খালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং পাইপের মাধ্যমে সেই বালু সরকারি খালে ফেলা হচ্ছে। খালের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এভাবে ফসলি জমি থেকে বালু তোলায় চারপাশের কৃষি জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন যে, বাধা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। প্রভাবশালী চক্রটি উল্টো হুমকিধমকি দিচ্ছে। খালের অস্তিত্ব বিলীন করে সেখানে আবাসন বা ঘরবাড়ি তৈরির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও খাল ভরাট বন্ধ করা হোক। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং কৃষকদের বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ উল আরেফিন বলেন, কেউ যদি বালু দিয়ে সরকারি খাল ভরাট করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 























