ভোলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ওপর বাস মালিক সমিতির অব্যাহত অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চালকেরা। একইসঙ্গে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুন মঙ্গলবার ভোলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা বাস মালিক সমিতি তাদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সিএনজি অটোরিকশার চালক ও যানবাহনের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বাস মালিকরা সিএনজিতে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং অটোরিকশা চলাচলে নিয়মিত বাধা সৃষ্টি করছে। যেকোনো অজুহাতে সিএনজি ভাঙচুর করা হচ্ছে, এমনকি পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের মারধর করে আহত করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, এই বিষয়ে বাস মালিক সমিতির সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। যার ফলে বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অটোরিকশা ও চালকদের ওপর থেকে বাস মালিক সমিতি ও বাস শ্রমিকদের অত্যাচার-নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করা। চরফ্যাশন ও ভোলায় অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা। সব ধরনের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং বাস ও সিএনজির জন্য আলাদা অবস্থান নিশ্চিত করা।
চালকেরা আরও দাবি করেন, ভোলার গ্যাস ভোলায় ব্যবহার করে কম দামে সিএনজি অটোরিকশার জন্য গ্যাস বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তারা বলেন, বর্তমানে তারা তিনজন যাত্রী পরিবহন করলে সমস্যা হয় না, কিন্তু পাঁচজন যাত্রী পরিবহন করলেই বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকেরা তাদের ওপর নির্যাতন চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি অটোরিকশা ও আহত চালকদের চিকিৎসার ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, চরফ্যাশন উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা, অটোটেম্পো, মিশুক, বেবিট্যাক্সি ইউনিয়নের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন জেলা সহসভাপতি মোহাম্মদ বাহারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন রিপনসহ সিএনজি শ্রমিক মো. হাসান, মো. মামুন, চরফ্যাশন শ্রমিক নেতা মো. হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে তাদের ১০ দফা দাবি সম্মিলিত স্মারকলিপি ভোলা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 























