ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

চাটখিলে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম: বাঁচানো গেল না কাউকেই, পরিবারে শোকের ছায়া

নোয়াখালীর চাটখিলে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন গৃহবধূ ফেরদাউস আক্তার সাথী। তবে মর্মান্তিকভাবে জন্মের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ নবজাতকেরই মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে গৃহবধূর স্বজন মো. দিদার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফেরদাউস আক্তার সাথী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা নিয়ে চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় একটি নবজাতক মৃত ছিল এবং বাকি চারটি জীবিত অবস্থায় জন্ম নেয়। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) নেওয়া হয়।

চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার বলেন, মায়ের গর্ভকাল ছিল প্রায় ছয় মাস। একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে একটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। জীবিত চার নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনআইসিইউতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে চার নবজাতকেরই মৃত্যু হয়। অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া এবং শারীরিক জটিলতার কারণে নবজাতকদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।

পেশায় রঙমিস্ত্রি মো. পারভেজ ও ফেরদাউস আক্তার সাথী দম্পতির বিয়ের তিন বছর পর এই সন্তানসম্ভবা হওয়ার সুখবর আসে। ১২ সপ্তাহের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকরা গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। বিরল এই গর্ভধারণের খবরটি কয়েক মাস আগেই পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তবে সীমিত আয়ের কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা এই পরিবারের পক্ষে কঠিন ছিল। এ নিয়ে আগে চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. তাহমিনা আক্তার সুবর্ণা জানিয়েছিলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তান ধারণ অত্যন্ত বিরল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ, যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। পরিবারটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন চাটখিল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্তুগালের খেলায় নেই ছন্দ, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন রিকার্ডো কারেজমা

চাটখিলে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম: বাঁচানো গেল না কাউকেই, পরিবারে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ১০:২৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর চাটখিলে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন গৃহবধূ ফেরদাউস আক্তার সাথী। তবে মর্মান্তিকভাবে জন্মের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ নবজাতকেরই মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে গৃহবধূর স্বজন মো. দিদার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফেরদাউস আক্তার সাথী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা নিয়ে চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় একটি নবজাতক মৃত ছিল এবং বাকি চারটি জীবিত অবস্থায় জন্ম নেয়। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) নেওয়া হয়।

চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার বলেন, মায়ের গর্ভকাল ছিল প্রায় ছয় মাস। একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে একটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। জীবিত চার নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনআইসিইউতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে চার নবজাতকেরই মৃত্যু হয়। অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া এবং শারীরিক জটিলতার কারণে নবজাতকদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।

পেশায় রঙমিস্ত্রি মো. পারভেজ ও ফেরদাউস আক্তার সাথী দম্পতির বিয়ের তিন বছর পর এই সন্তানসম্ভবা হওয়ার সুখবর আসে। ১২ সপ্তাহের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকরা গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। বিরল এই গর্ভধারণের খবরটি কয়েক মাস আগেই পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তবে সীমিত আয়ের কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা এই পরিবারের পক্ষে কঠিন ছিল। এ নিয়ে আগে চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. তাহমিনা আক্তার সুবর্ণা জানিয়েছিলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তান ধারণ অত্যন্ত বিরল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ, যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। পরিবারটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন চাটখিল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান।