ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ধর্ষণের শিকার নারীদের বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি: মানসিক ও আইনি সহায়তার অভাব

দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) এ সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সারা দেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচজন ধর্ষণের শিকার নারী চিকিৎসা নিতে ওসিসিতে আসছেন। এর পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষণের শিকার নারীকে চিকিৎসা দিচ্ছে ওসিসি। তবে, এটি কেবল তাদেরই হিসাব যারা ওসিসিতে চিকিৎসা নিতে আসেন; দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের হিসাব এর বাইরে।

ওসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েরাই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং সামাজিক অবক্ষয়কে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে অপরাধীরা সহজেই ছাড় পেয়ে যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে আসা একজন নারী মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত থাকেন। এই অবস্থায় বারবার ঘটনার বর্ণনা দিতে বাধ্য করা হলে তাদের মানসিক শক্তি আরও কমে যায়, যা তাদের জন্য অসহনীয় বিড়ম্বনার কারণ হয়। মহিলা আইনজীবী সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত।

ওসিসিতে কর্তব্যরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসরিন সুলতানা বলেন, ভুক্তভোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া, ওসিসিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ধমক দিয়ে বা বিভিন্ন কৌশলে তারা প্রবেশ করে, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে এবং চিকিৎসাধীন নারী-শিশুদের গোপনীয়তা ও আত্মসম্মানবোধে আঘাত হানে। চিকিৎসকরা ভুক্তভোগীদের বেশি প্রশ্ন না করে তাদের বিশ্রামে রাখার পরামর্শ দিলেও, দর্শনার্থীরা তা মানছেন না।

দেশজুড়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে চালু থাকা ১৫টি ওসিসি কেন্দ্র থেকে ভুক্তভোগী নির্যাতিত নারী ও শিশুরা চিকিৎসা ও ফরেনসিক সহায়তা, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকারদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা এবং আইনি সহায়তা পেয়ে থাকেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থ পাচার ও সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ষণের শিকার নারীদের বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি: মানসিক ও আইনি সহায়তার অভাব

আপডেট সময় : ১২:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) এ সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সারা দেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচজন ধর্ষণের শিকার নারী চিকিৎসা নিতে ওসিসিতে আসছেন। এর পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষণের শিকার নারীকে চিকিৎসা দিচ্ছে ওসিসি। তবে, এটি কেবল তাদেরই হিসাব যারা ওসিসিতে চিকিৎসা নিতে আসেন; দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের হিসাব এর বাইরে।

ওসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েরাই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং সামাজিক অবক্ষয়কে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে অপরাধীরা সহজেই ছাড় পেয়ে যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে আসা একজন নারী মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত থাকেন। এই অবস্থায় বারবার ঘটনার বর্ণনা দিতে বাধ্য করা হলে তাদের মানসিক শক্তি আরও কমে যায়, যা তাদের জন্য অসহনীয় বিড়ম্বনার কারণ হয়। মহিলা আইনজীবী সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত।

ওসিসিতে কর্তব্যরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসরিন সুলতানা বলেন, ভুক্তভোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া, ওসিসিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ধমক দিয়ে বা বিভিন্ন কৌশলে তারা প্রবেশ করে, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে এবং চিকিৎসাধীন নারী-শিশুদের গোপনীয়তা ও আত্মসম্মানবোধে আঘাত হানে। চিকিৎসকরা ভুক্তভোগীদের বেশি প্রশ্ন না করে তাদের বিশ্রামে রাখার পরামর্শ দিলেও, দর্শনার্থীরা তা মানছেন না।

দেশজুড়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে চালু থাকা ১৫টি ওসিসি কেন্দ্র থেকে ভুক্তভোগী নির্যাতিত নারী ও শিশুরা চিকিৎসা ও ফরেনসিক সহায়তা, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকারদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা এবং আইনি সহায়তা পেয়ে থাকেন।