ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

৪৫ মাস পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, অর্থনীতিতে স্বস্তি

দীর্ঘ ৪৫ মাস পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সোমবার দিন শেষে দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত বুধবার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপর উঠেছিল, যা দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তি এনেছে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। এরপর থেকে তা কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছিল। এই নতুন বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ এখন ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। গত বুধবার এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। ওই সময় এ হিসেবে রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে সেখান থেকে দ্রুত রিজার্ভ কমতে শুরু করে। একই সময়ে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় উন্নীত হয়।

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এই উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালু: গ্রীষ্মের রুক্ষতায় এক পশলা সোনালি সৌন্দর্যের ছোঁয়া

৪৫ মাস পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, অর্থনীতিতে স্বস্তি

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ৪৫ মাস পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সোমবার দিন শেষে দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত বুধবার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপর উঠেছিল, যা দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তি এনেছে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। এরপর থেকে তা কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছিল। এই নতুন বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ এখন ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। গত বুধবার এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। ওই সময় এ হিসেবে রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে সেখান থেকে দ্রুত রিজার্ভ কমতে শুরু করে। একই সময়ে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় উন্নীত হয়।

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এই উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।