ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে বাংলাদেশে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

বাংলাদেশে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, সচেতনতা ও সময়মতো স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর টিকাদান, জনসচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব।

গত সোমবার শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এইচপিভি শুধুমাত্র জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী নয়, বরং এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে বলে উল্লেখ করেন। আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেছা মূল প্রবন্ধে বলেন, এইচপিভি সবচেয়ে সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার ২০০টিরও বেশি ধরন রয়েছে এবং ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির প্রাদুর্ভাব ৪ দশমিক ২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘৯০-৭০-৯০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন জরুরি।

আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের অপর লিড অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার বলেন, তাদের লক্ষ্য এইচপিভি-সংক্রান্ত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ জন্য টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি এবং অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা হবে। তিনি বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট বয়সী মেয়েদের টিকা দেওয়া হলেও ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালু: গ্রীষ্মের রুক্ষতায় এক পশলা সোনালি সৌন্দর্যের ছোঁয়া

জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে বাংলাদেশে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, সচেতনতা ও সময়মতো স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর টিকাদান, জনসচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব।

গত সোমবার শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এইচপিভি শুধুমাত্র জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী নয়, বরং এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে বলে উল্লেখ করেন। আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেছা মূল প্রবন্ধে বলেন, এইচপিভি সবচেয়ে সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার ২০০টিরও বেশি ধরন রয়েছে এবং ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির প্রাদুর্ভাব ৪ দশমিক ২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘৯০-৭০-৯০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন জরুরি।

আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের অপর লিড অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার বলেন, তাদের লক্ষ্য এইচপিভি-সংক্রান্ত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ জন্য টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি এবং অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা হবে। তিনি বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট বয়সী মেয়েদের টিকা দেওয়া হলেও ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানান।