ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, খাদ্যপণ্য সরবরাহ এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ালে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

টিসিপির চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ করতে টিসিবি ও টিসিপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করে। এছাড়া, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে পাকিস্তান প্রতিনিধিদল সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও আইনগত কাঠামো অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেইমার আরও বেশি সময় খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি

বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০২:২৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, খাদ্যপণ্য সরবরাহ এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ালে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

টিসিপির চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ করতে টিসিবি ও টিসিপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করে। এছাড়া, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে পাকিস্তান প্রতিনিধিদল সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও আইনগত কাঠামো অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়।