সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমাতে সরকার আগামী দুই অর্থবছরে (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকে সরে আসার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাসের আগেই এই সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিলেন। বর্তমানে বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধান রাখা হলেও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে সরকার তা প্রত্যাহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের শর্ত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তবে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে (বিটুবি) লেনদেনে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের প্রস্তাবটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, সোনা বিক্রির ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
একই হারে ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক, শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং শেয়ার বিক্রির মূলধনী লাভের ওপরও কর আরোপের প্রস্তাব ছিল। এদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ডেন্টাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, আবাসন খাতের ডেভেলপারদের কর কাঠামোয় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 

























