বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সামাজিক সুরক্ষার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ছাড়া প্রণোদনা কার্যকর হবে না এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে, বিলাসী ব্যয়ের পরিবর্তে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তারা মত দেন।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে গবেষণাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২৭: মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে না আনলে প্রণোদনা কার্যকর হবে না। তিনি ব্যাংকিং খাতে অপ্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতিরিক্ত অর্থ ছাপিয়ে সরকারের ঋণ গ্রহণ মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াবে, যার সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার বাজেট ঘোষণার আগেই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়ে বাজেট বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত বরাদ্দকে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেন। দুর্নীতিকে তিনি এ খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আয় বৈষম্যের কারণে এর সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে। কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এ জনগোষ্ঠীকে আংশিক সুরক্ষা দিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























