ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

‘আপনি’ না বলায় সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত, ঢাকা মেডিকেলে স্কুলছাত্র

রাজধানীর শ্যামপুরে ‘তুমি’ না ‘আপনি’ সম্বোধন নিয়ে তুচ্ছ দ্বন্দ্বে এক স্কুলছাত্রকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শ্যামপুরের ধোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই রক্তাক্ত কাণ্ড ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্কুলছাত্র শাহারিয়ার সানজুকে (১৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সানজু ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সানজু স্কুলে পৌঁছামাত্রই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় তাকে ঘিরে ধরে। ‘আপনি’ করে কথা না বলে কেন সাধারণ সম্বোধন করা হয়েছে—এই নিয়ে সানজুর সাথে জয়ের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে জয় পকেট থেকে একটি গিয়ার চাকু বের করে সানজুর বুকের বাম পাশে ও পেটের ঠিক ওপরে সজোরে আঘাত করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় সানজু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, হামলার সময় জয়ের সাথে মুহিন ও মাহিন নামের আরও দুই কিশোর উপস্থিত ছিল।

আহত শিক্ষার্থীর মামা আবু সাঈদ জানান, “শুধু ‘আপনি’ করে কথা বলা নিয়ে জয় নামের ছেলেটি সানজুর সাথে ঝগড়া বাধায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও গিয়ার চাকু দিয়ে সানজুর বুকে ও পেটে আঘাত বসিয়ে দেয়। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

আশঙ্কাজনক অবস্থায় সানজুকে প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সানজু বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আহত শাহারিয়ার সানজু মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার ডাগরখালী গ্রামের প্রয়াত মাহবুবের ছেলে। সে বর্তমানে পরিবারের সাথে ঢাকার মীরহাজীরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জয় ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে। স্কুল গেটের সামনে এমন প্রকাশ্য ও নৃশংস হামলায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই জাদুঘর’ অবিলম্বে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি

‘আপনি’ না বলায় সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত, ঢাকা মেডিকেলে স্কুলছাত্র

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

রাজধানীর শ্যামপুরে ‘তুমি’ না ‘আপনি’ সম্বোধন নিয়ে তুচ্ছ দ্বন্দ্বে এক স্কুলছাত্রকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শ্যামপুরের ধোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই রক্তাক্ত কাণ্ড ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্কুলছাত্র শাহারিয়ার সানজুকে (১৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সানজু ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সানজু স্কুলে পৌঁছামাত্রই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় তাকে ঘিরে ধরে। ‘আপনি’ করে কথা না বলে কেন সাধারণ সম্বোধন করা হয়েছে—এই নিয়ে সানজুর সাথে জয়ের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে জয় পকেট থেকে একটি গিয়ার চাকু বের করে সানজুর বুকের বাম পাশে ও পেটের ঠিক ওপরে সজোরে আঘাত করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় সানজু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, হামলার সময় জয়ের সাথে মুহিন ও মাহিন নামের আরও দুই কিশোর উপস্থিত ছিল।

আহত শিক্ষার্থীর মামা আবু সাঈদ জানান, “শুধু ‘আপনি’ করে কথা বলা নিয়ে জয় নামের ছেলেটি সানজুর সাথে ঝগড়া বাধায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও গিয়ার চাকু দিয়ে সানজুর বুকে ও পেটে আঘাত বসিয়ে দেয়। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

আশঙ্কাজনক অবস্থায় সানজুকে প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সানজু বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আহত শাহারিয়ার সানজু মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার ডাগরখালী গ্রামের প্রয়াত মাহবুবের ছেলে। সে বর্তমানে পরিবারের সাথে ঢাকার মীরহাজীরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জয় ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে। স্কুল গেটের সামনে এমন প্রকাশ্য ও নৃশংস হামলায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।