ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন, বাংলাদেশে সুবিধা মিলবে কবে?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। জ্বালানি তেলের দাম এখন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় নেমে এলেও বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগে দাম বাড়ানো হলেও এখন তা কমানোর কোনো লক্ষণ নেই। বরং বর্ধিত দামের অজুহাতে পণ্য পরিবহন ও যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।

কবে নাগাদ দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক হবে, আদৌ হবে কি না, নাকি বাড়তি দামেই বিক্রি হবে—এমন প্রশ্নের জবাব নেই সরকারের নীতিনির্ধারকসহ জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো তথ্যও দিতে পারছেন না। তবে দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক বলে তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমানোর তাগিদ দিয়েছেন ভোক্তাসহ এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জ্বালানি খাতকে মুনাফা অর্জনের খাত হিসেবে না দেখে সরকারকে ব্যবস্থাপক ও জোগানদাতার ভূমিকায় দেখতে চান।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও সরবরাহ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) ১.২২ ডলার বা ১.৬৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২.৫২ ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৯০২ টাকা (এক ডলার সমান ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। প্রতি লিটার (এক ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৬ টাকা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১.০২ ডলার বা ১.৪৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৯.৩২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর উভয় ক্ষেত্রে এ দাম সর্বনিম্ন। যদিও গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একপর্যায়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে এইচআইভি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ৬৬ শতাংশই সমকামী

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন, বাংলাদেশে সুবিধা মিলবে কবে?

আপডেট সময় : ১০:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। জ্বালানি তেলের দাম এখন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় নেমে এলেও বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগে দাম বাড়ানো হলেও এখন তা কমানোর কোনো লক্ষণ নেই। বরং বর্ধিত দামের অজুহাতে পণ্য পরিবহন ও যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।

কবে নাগাদ দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক হবে, আদৌ হবে কি না, নাকি বাড়তি দামেই বিক্রি হবে—এমন প্রশ্নের জবাব নেই সরকারের নীতিনির্ধারকসহ জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো তথ্যও দিতে পারছেন না। তবে দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক বলে তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমানোর তাগিদ দিয়েছেন ভোক্তাসহ এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জ্বালানি খাতকে মুনাফা অর্জনের খাত হিসেবে না দেখে সরকারকে ব্যবস্থাপক ও জোগানদাতার ভূমিকায় দেখতে চান।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও সরবরাহ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) ১.২২ ডলার বা ১.৬৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২.৫২ ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৯০২ টাকা (এক ডলার সমান ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। প্রতি লিটার (এক ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৬ টাকা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১.০২ ডলার বা ১.৪৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৯.৩২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর উভয় ক্ষেত্রে এ দাম সর্বনিম্ন। যদিও গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একপর্যায়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।