বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের ওপর আলোচনাকালে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি স্লিপ পাঠিয়েছেন, যেখানে থানচির তিন্দু এলাকার এই স্কুলটিকে জাতীয়করণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে এখানকার অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে পারে না, ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
এই সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। ছুটির দিনগুলোতে তিনি নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে থানচি–তিন্দু–রেমাক্রী নদীপথে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন। এই আয় দিয়ে তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেন। শুধু গত মার্চ ও এপ্রিল মাসেই তিনি নৌকা চালিয়ে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা আয় করেছেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন হিসেবে দিয়েছেন।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে একজন প্রধান শিক্ষকের এমন আত্মত্যাগ এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস। স্থানীয় প্রশাসনও বিদ্যালয়ের জন্য নৌকা, ভবন নির্মাণ ও ছাত্রাবাস সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হলো, যা এই অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 





















