ফুটবল মাঠের লড়াই কখনো কখনো নিছক খেলার গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ও মানবিক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবল দলের গল্পটি ঠিক তেমনই এক ট্র্যাজেডির। প্রতিপক্ষের চেয়েও তাদের বেশি লড়তে হয়েছে মাঠের বাইরের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেস ক্যাম্প গড়তে না পেরে তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছিল মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায়। প্রতিটি ম্যাচের আগে সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াতের এই ক্লান্তিই ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী।
কোচ আমির গালেনোয়ি এই দলকে ‘বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ভিসা জটিলতায় লজিস্টিক স্টাফদের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি ‘টিম মেল্লি’। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ ড্র এবং শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়ে তারা নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিল। শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে জয় পেলেই নিশ্চিত হতো পরবর্তী রাউন্ড।
কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ইরানের জন্য এক বড় আক্ষেপের নাম হয়ে রইল। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতায় ফেরে ইরান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যখন পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়েছিল শোজা খলিলজাদেহর গোলে, তখনই দৃশ্যপটে আসে ভিএআর (VAR)। রিপ্লেতে দেখা যায়, খলিলজাদেহর বুটের অগ্রভাগ মিসরের শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিল।
সেই সামান্য অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় গোলটি, আর সেই সঙ্গেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় ইরানের নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন। মাঠের বাইরের হাজারো প্রতিবন্ধকতা জয় করে আসা একটি দলের এমন প্রস্থান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক বিয়োগান্তক অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।
রিপোর্টারের নাম 

























