ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ধর্মীয় পরিচয় নাকি রাজনৈতিক প্রতীক—বিতর্কে কালেমার পতাকা

সাদা বা কালো কাপড়ে কালেমা তাইয়্যিবা খচিত পতাকা—গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা, সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার এমনকি মোটরসাইকেল মিছিলেও দেখা যাচ্ছে এসব পতাকা।

পতাকা বহনকারীদের দাবি, এটি ইসলামের পরিচয়ের প্রতীক। তাদের প্রশ্ন, দেশে যদি বিভিন্ন বিদেশি ফুটবল দলের পতাকা ওড়ানো যায়, তাহলে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে আপত্তি কেন?

তবে এই প্রবণতা ঘিরে ভিন্নমতও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক, মানবাধিকারকর্মী এবং ইসলামি চিন্তাবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে নকশাগত মিল থাকায় বিষয়টি ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রাজধানী থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জেলায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন বিক্ষোভ ও সমাবেশে বিচ্ছিন্নভাবে কালেমা খচিত পতাকা দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও সেতুতে এসব পতাকা টাঙানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল মিছিলেও অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা গেছে একই ধরনের পতাকা। কোথাও কোথাও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে পরিচিত করেছেন।

সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে কালেমা খচিত পতাকা অপসারণের প্রতিবাদে বগুড়ার শেরপুরে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও ফিলিস্তিনের পতাকাও বহন করা হয়।

তবে গত বছর বিভিন্ন মাজার, দরগা ও বাউল আখড়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘তৌহিদী জনতা’ এবং বর্তমান পতাকা বহনকারী গোষ্ঠী একই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিক্রি হচ্ছে পতাকা

ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কালেমা খচিত পতাকা বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ১১০ থেকে ৩৩০ টাকার মধ্যে এসব পতাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পতাকা ব্যবহারের পক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তার বক্তব্যও ছড়িয়ে পড়ছে।

এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন পোস্ট ও ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে। একাধিক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, কালেমার পতাকাকে উগ্রবাদের প্রতীক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই এবং অন্য দেশের পতাকা ওড়ানো বৈধ হলে এ পতাকা নিয়েও আপত্তি থাকার কথা নয়।

তবে আরেক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত কিছু পতাকার নকশা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কিছু গোষ্ঠীর পতাকার সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি কৌশলগতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভিন্ন নকশার পতাকা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত

ইসলামি লেখক ফারুক ফেরদৌস বলেন, বিতর্কের বিষয় কালেমা নয়; বরং নির্দিষ্ট নকশার পতাকা, যা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কিছু সংগঠনের ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়।

অন্যদিকে লেখক মনযূরুল হক মনে করেন, কালেমা খচিত পতাকাকে দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে তার ভাষ্য, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নবী (সা.)-এর পতাকায় কালেমা লেখা ছিল—এমন শক্তিশালী ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইতিহাসবিদদের মতে, পতাকায় কালেমা লেখার প্রচলন পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে আব্বাসীয় আমলে দেখা যায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়নি। তবে তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, কিছু গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে এমন প্রতীককে মূলধারায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তার ভাষায়, “মনে হচ্ছে তারা খুব সুকৌশলে কালেমার নামে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক সমর্থন পেতে চাইছেন।”

মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, পতাকাটি কে ব্যবহার করছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে, সেটিই মূল বিবেচনার বিষয়।

তার মতে, “সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ব্যবহার করলে এক বিষয়, কিন্তু যদি কোনো উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার আহ্বান

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব পতাকা বহনকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় এবং উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিত।

তার ভাষায়, “এটি এমন একটি প্রতীক, যা আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে পরিচিত। ফলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে থাকা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব ফুটবলে মেসির নতুন ইতিহাস: টানা ৭ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের অনন্য রেকর্ড

ধর্মীয় পরিচয় নাকি রাজনৈতিক প্রতীক—বিতর্কে কালেমার পতাকা

আপডেট সময় : ১০:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সাদা বা কালো কাপড়ে কালেমা তাইয়্যিবা খচিত পতাকা—গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা, সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার এমনকি মোটরসাইকেল মিছিলেও দেখা যাচ্ছে এসব পতাকা।

পতাকা বহনকারীদের দাবি, এটি ইসলামের পরিচয়ের প্রতীক। তাদের প্রশ্ন, দেশে যদি বিভিন্ন বিদেশি ফুটবল দলের পতাকা ওড়ানো যায়, তাহলে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে আপত্তি কেন?

তবে এই প্রবণতা ঘিরে ভিন্নমতও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক, মানবাধিকারকর্মী এবং ইসলামি চিন্তাবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে নকশাগত মিল থাকায় বিষয়টি ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রাজধানী থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জেলায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন বিক্ষোভ ও সমাবেশে বিচ্ছিন্নভাবে কালেমা খচিত পতাকা দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও সেতুতে এসব পতাকা টাঙানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল মিছিলেও অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা গেছে একই ধরনের পতাকা। কোথাও কোথাও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে পরিচিত করেছেন।

সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে কালেমা খচিত পতাকা অপসারণের প্রতিবাদে বগুড়ার শেরপুরে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও ফিলিস্তিনের পতাকাও বহন করা হয়।

তবে গত বছর বিভিন্ন মাজার, দরগা ও বাউল আখড়ায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘তৌহিদী জনতা’ এবং বর্তমান পতাকা বহনকারী গোষ্ঠী একই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিক্রি হচ্ছে পতাকা

ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কালেমা খচিত পতাকা বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ১১০ থেকে ৩৩০ টাকার মধ্যে এসব পতাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পতাকা ব্যবহারের পক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তার বক্তব্যও ছড়িয়ে পড়ছে।

এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন পোস্ট ও ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে। একাধিক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, কালেমার পতাকাকে উগ্রবাদের প্রতীক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই এবং অন্য দেশের পতাকা ওড়ানো বৈধ হলে এ পতাকা নিয়েও আপত্তি থাকার কথা নয়।

তবে আরেক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত কিছু পতাকার নকশা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কিছু গোষ্ঠীর পতাকার সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি কৌশলগতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভিন্ন নকশার পতাকা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত

ইসলামি লেখক ফারুক ফেরদৌস বলেন, বিতর্কের বিষয় কালেমা নয়; বরং নির্দিষ্ট নকশার পতাকা, যা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কিছু সংগঠনের ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়।

অন্যদিকে লেখক মনযূরুল হক মনে করেন, কালেমা খচিত পতাকাকে দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে তার ভাষ্য, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নবী (সা.)-এর পতাকায় কালেমা লেখা ছিল—এমন শক্তিশালী ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইতিহাসবিদদের মতে, পতাকায় কালেমা লেখার প্রচলন পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে আব্বাসীয় আমলে দেখা যায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়নি। তবে তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, কিছু গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে এমন প্রতীককে মূলধারায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তার ভাষায়, “মনে হচ্ছে তারা খুব সুকৌশলে কালেমার নামে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক সমর্থন পেতে চাইছেন।”

মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, পতাকাটি কে ব্যবহার করছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে, সেটিই মূল বিবেচনার বিষয়।

তার মতে, “সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ব্যবহার করলে এক বিষয়, কিন্তু যদি কোনো উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার আহ্বান

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব পতাকা বহনকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় এবং উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিত।

তার ভাষায়, “এটি এমন একটি প্রতীক, যা আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে পরিচিত। ফলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে থাকা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।