ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

চীনে বাংলাদেশের কাঁঠাল রপ্তানির নতুন দিগন্ত: সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল এবার রপ্তানি হতে যাচ্ছে চীনের বিশাল বাজারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে আগ্রহী, তা নিয়ে এখন নানা মহলে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। মূলত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির সময় থেকেই চীন কাঁঠাল ও পেয়ারার প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল ইকোনমিসহ মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচনা এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। চীনে কাঁঠাল রপ্তানির এই সুযোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। তবে বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আধুনিক প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানি এতদিন মূলত নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত বাজারের (এথনিক মার্কেট) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারায় ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করা এখনো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের মতো বড় বাজারে প্রবেশের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন করা জরুরি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে কাঁঠালের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যেখানে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড বর্তমানে প্রধান আধিপত্য বিস্তার করে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে ইউরোপের দুই দেশে সেনাপ্রধান

চীনে বাংলাদেশের কাঁঠাল রপ্তানির নতুন দিগন্ত: সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট সময় : ০৯:১২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল এবার রপ্তানি হতে যাচ্ছে চীনের বিশাল বাজারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে আগ্রহী, তা নিয়ে এখন নানা মহলে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। মূলত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির সময় থেকেই চীন কাঁঠাল ও পেয়ারার প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল ইকোনমিসহ মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচনা এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। চীনে কাঁঠাল রপ্তানির এই সুযোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। তবে বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আধুনিক প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানি এতদিন মূলত নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত বাজারের (এথনিক মার্কেট) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারায় ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করা এখনো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের মতো বড় বাজারে প্রবেশের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন করা জরুরি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে কাঁঠালের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যেখানে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড বর্তমানে প্রধান আধিপত্য বিস্তার করে আছে।