ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই বিপর্যয়কর ঘটনায় অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৬৮ হাজার ৯০০ জন। দেশটিতে এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প, যাতে বহু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতি হালনাগাদ তথ্যে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রাথমিক অনুমানের ভিত্তিতে জানিয়েছে, গত বুধবারের এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে দেশের প্রায় ৬৭.৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আইওএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে কেবল রাজধানী কারাকাসেরই প্রায় ২০ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ক্ষতির মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় মানবিক সংকটের এই ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ উল্লেখ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারের প্রায় ৩১.৫ শতাংশ ভবন ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেছেন, একটি দুর্যোগের পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা এবং দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পরবর্তী সবকিছুকে রূপ দেয়। বিপর্যয় মোকাবিলায় আইওএম দ্রুতগতিতে তাদের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম প্রসারিত করছে। কারাকাসে আগে থেকে মজুত রাখা জরুরি ত্রাণসামগ্রী ইতোমধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিতরণ শুরু হয়েছে। জরুরি আশ্রয়, অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা ভেনেজুয়েলা সরকার ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে চলায় দেশে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যাপক আকারে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ১৯০০ সালের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
রিপোর্টারের নাম 






















