ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মিটফোর্ড হাসপাতালে দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, রোগীদের ভোগান্তি চরমে

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পেইং শিশু ওয়ার্ডে দালাল চক্রের সক্রিয়তা রোগীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি কমিশনের বিনিময়ে রোগীদের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এবং ভর্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সম্প্রতি হাসপাতালের ৭০৪ নম্বর রুমে জনি মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের ফাইলপত্র দেখতে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা ও খরচের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে দেখা গেছে। তিনি রোগীদের নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিকের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে দিচ্ছিলেন। যখন সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে এক রোগীর স্বজন হিসেবে বিভিন্ন টেস্টের খরচ জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি সন্দেহভাজন আচরণ করেন এবং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি হাসপাতালের কোনো কর্মচারী নন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অধিকাংশই স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া, প্যাথলজি বিভাগে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমআরআই, সিটিস্ক্যান বা ডায়ালাইসিস এবং চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শয্যার তুলনায় রোগী সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অনেককে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা তাদের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে।

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ওয়ার্ডের শৌচাগারের বেহাল দশাও রোগীদের ক্ষোভের কারণ হচ্ছে। এছাড়া, হাসপাতালের কয়েকটি ভবন অত্যন্ত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদানেও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। এই পরিস্থিতিতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রোগীদের সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে এইচআইভি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ৬৬ শতাংশই সমকামী

মিটফোর্ড হাসপাতালে দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, রোগীদের ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পেইং শিশু ওয়ার্ডে দালাল চক্রের সক্রিয়তা রোগীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি কমিশনের বিনিময়ে রোগীদের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এবং ভর্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সম্প্রতি হাসপাতালের ৭০৪ নম্বর রুমে জনি মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের ফাইলপত্র দেখতে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা ও খরচের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে দেখা গেছে। তিনি রোগীদের নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিকের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে দিচ্ছিলেন। যখন সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে এক রোগীর স্বজন হিসেবে বিভিন্ন টেস্টের খরচ জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি সন্দেহভাজন আচরণ করেন এবং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি হাসপাতালের কোনো কর্মচারী নন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অধিকাংশই স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া, প্যাথলজি বিভাগে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমআরআই, সিটিস্ক্যান বা ডায়ালাইসিস এবং চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শয্যার তুলনায় রোগী সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অনেককে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা তাদের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে।

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ওয়ার্ডের শৌচাগারের বেহাল দশাও রোগীদের ক্ষোভের কারণ হচ্ছে। এছাড়া, হাসপাতালের কয়েকটি ভবন অত্যন্ত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদানেও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। এই পরিস্থিতিতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রোগীদের সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।