ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলন: হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র পাহাড়ি নদী, ঝরনা ও ঝোড়া থেকে দিন-রাত সমানে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বন বিভাগ মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও লোকবল সংকটের কারণে বালু উত্তোলনকারীদের পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এমনকি গত জুন মাসে অবৈধ বালুসহ ট্রাক আটকের সময় বালু সন্ত্রাসীদের হামলায় বন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও থেমে নেই এই অসাধু চক্রের তৎপরতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা ও মালিটিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবেই এই দস্যুতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। যদিও বন বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের নজরদারি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বন বিভাগের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং সম্প্রতি বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তবে পাহাড়ের অমূল্য সম্পদ ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে রাজধানী প্যারিস, ২৪ ঘণ্টায় ১০৯ জনের প্রাণহানি

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলন: হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ

আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র পাহাড়ি নদী, ঝরনা ও ঝোড়া থেকে দিন-রাত সমানে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বন বিভাগ মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও লোকবল সংকটের কারণে বালু উত্তোলনকারীদের পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এমনকি গত জুন মাসে অবৈধ বালুসহ ট্রাক আটকের সময় বালু সন্ত্রাসীদের হামলায় বন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও থেমে নেই এই অসাধু চক্রের তৎপরতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা ও মালিটিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবেই এই দস্যুতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। যদিও বন বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের নজরদারি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বন বিভাগের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং সম্প্রতি বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তবে পাহাড়ের অমূল্য সম্পদ ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।