ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

শাহজাদপুরে রাউতারা রিং বাঁধ: চার দশকেও হলো না স্থায়ী সমাধান, প্রতিবছর জলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষকদের ফসল রক্ষার নামে গত ৩৮ বছর ধরে যমুনা নদী থেকে বালু তুলে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী রাউতারা রিং বাঁধ। পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ—এই তিন জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান রক্ষায় প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে বছরের পর বছর অস্থায়ী বাঁধের নামে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই রিং বাঁধ নির্মাণে প্রতিবছরই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। বাঁধে যে পরিমাণ মাটি ও বালু ফেলার কথা, তা যথাযথভাবে ফেলা হয় না। গত চার বছরে ১ হাজার ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি বছরেও প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বাঁধটি নির্মাণের মাত্র মাসখানেকের মাথায় মাছ শিকার ও নৌকা চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এটি কেটে দেয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে নির্মিত একটি স্থায়ী বাঁধ ১৯৮৮ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই অস্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবছর জুন মাস শেষ হতে না হতেই বাঁধটি কেটে ফেলায় সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থ কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয় কৃষকরা এই অপচয় বন্ধ করে সেখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে রাজধানী প্যারিস, ২৪ ঘণ্টায় ১০৯ জনের প্রাণহানি

শাহজাদপুরে রাউতারা রিং বাঁধ: চার দশকেও হলো না স্থায়ী সমাধান, প্রতিবছর জলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৫:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষকদের ফসল রক্ষার নামে গত ৩৮ বছর ধরে যমুনা নদী থেকে বালু তুলে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী রাউতারা রিং বাঁধ। পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ—এই তিন জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান রক্ষায় প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে বছরের পর বছর অস্থায়ী বাঁধের নামে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই রিং বাঁধ নির্মাণে প্রতিবছরই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। বাঁধে যে পরিমাণ মাটি ও বালু ফেলার কথা, তা যথাযথভাবে ফেলা হয় না। গত চার বছরে ১ হাজার ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি বছরেও প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বাঁধটি নির্মাণের মাত্র মাসখানেকের মাথায় মাছ শিকার ও নৌকা চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এটি কেটে দেয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে নির্মিত একটি স্থায়ী বাঁধ ১৯৮৮ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই অস্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবছর জুন মাস শেষ হতে না হতেই বাঁধটি কেটে ফেলায় সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থ কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয় কৃষকরা এই অপচয় বন্ধ করে সেখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।