ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সাপাহারে আমের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা: লোকসানের শঙ্কা

দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং ‘আমের বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত নওগাঁর সাপাহারে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়েও আমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও বাজারে আমের দাম কম এবং প্রতি মণে প্রচলিত ৪০ কেজির পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত আম বিক্রির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি নেই। অধিকাংশ চাষি এখন লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সাপাহারের জিরো পয়েন্ট, গোডাউনপাড়া, তিলনা রোড, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বসেছে বিশাল আমের হাট। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, শ্যালোচালিত যান ও ট্রাকভর্তি আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ বিভিন্ন জাতের আম নিয়ে প্রতিদিন ভিড় করছেন চাষিরা। তবে বাজারজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা কম দাম ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে।

চাষিদের অভিযোগ, গত এক বছরে সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ গত বছরের তুলনায় প্রায় সব জাতের আমের দাম প্রতি মণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর ওপর প্রতি মণে ১২ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত বেশি আম দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য উৎপাদন খরচ ওঠানোও কঠিন করে তুলেছে।

একজন আমচাষি আকবর আলি জানান, ‘গত বছর মৌসুমের শুরুতে ৪৫ কেজিতে মণ ধরা হতো। এখন ৫২ থেকে ৫৩ কেজি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। আবার নানা অজুহাতে আরও কয়েক কেজি বেশি নেওয়া হয়। হিসাব করলে ১৩ মণ আম দিয়েও ১০ মণের দাম পাওয়া যায়।’ আরেক চাষি আলম হোসেন বলেন, ‘এখন বাগান করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়। শ্রমিক, সার, কীটনাশক—সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু আমের দাম কমেছে। এভাবে কৃষকের লাভ করা সম্ভব নয়।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাপাহারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আম-বাণিজ্য থেকে এই উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি চাষিদের জন্য হতাশাজনক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকের ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের

সাপাহারে আমের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা: লোকসানের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:৪১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং ‘আমের বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত নওগাঁর সাপাহারে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়েও আমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও বাজারে আমের দাম কম এবং প্রতি মণে প্রচলিত ৪০ কেজির পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত আম বিক্রির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি নেই। অধিকাংশ চাষি এখন লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সাপাহারের জিরো পয়েন্ট, গোডাউনপাড়া, তিলনা রোড, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বসেছে বিশাল আমের হাট। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, শ্যালোচালিত যান ও ট্রাকভর্তি আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ বিভিন্ন জাতের আম নিয়ে প্রতিদিন ভিড় করছেন চাষিরা। তবে বাজারজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা কম দাম ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে।

চাষিদের অভিযোগ, গত এক বছরে সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ গত বছরের তুলনায় প্রায় সব জাতের আমের দাম প্রতি মণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর ওপর প্রতি মণে ১২ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত বেশি আম দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য উৎপাদন খরচ ওঠানোও কঠিন করে তুলেছে।

একজন আমচাষি আকবর আলি জানান, ‘গত বছর মৌসুমের শুরুতে ৪৫ কেজিতে মণ ধরা হতো। এখন ৫২ থেকে ৫৩ কেজি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। আবার নানা অজুহাতে আরও কয়েক কেজি বেশি নেওয়া হয়। হিসাব করলে ১৩ মণ আম দিয়েও ১০ মণের দাম পাওয়া যায়।’ আরেক চাষি আলম হোসেন বলেন, ‘এখন বাগান করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়। শ্রমিক, সার, কীটনাশক—সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু আমের দাম কমেছে। এভাবে কৃষকের লাভ করা সম্ভব নয়।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাপাহারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আম-বাণিজ্য থেকে এই উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি চাষিদের জন্য হতাশাজনক।