ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

লেবানন থেকে ইসরাইলের শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি হিজবুল্লাহ মহাসচিবের

ইসরাইলকে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।

নাঈম কাসেম তার বক্তব্যে বলেন, ইসরাইল কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না, বরং তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো লেবাননকে গ্রাস করা এবং দেশটিকে পুরোপুরি দখল করে নেওয়া। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহর সংযম কোনো দুর্বলতা ছিল না, বরং এটি ছিল ধৈর্যের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যা শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পথ খুলে দেবে। দীর্ঘ সহনশীলতাই বিজয়ের একমাত্র পথ এবং এটি অত্যাচারীর নিপীড়নকে ভেঙে চূর্ণ করে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মহাসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, লিটানি নদীর উত্তর অঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন প্রত্যাহারের পরেই কেবল অস্ত্রের বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় আসবে। নাঈম কাসেম দাবি করেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা, কিন্তু তারা সফলভাবে এই আগ্রাসন রুখে দিয়েছেন। তার মতে, ইসরাইলি দখলদারিত্বের ফলেই এই প্রতিরোধের জন্ম হয়েছে এবং তাদের যোদ্ধারা বর্তমানে আলী তাহের পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।

হিজবুল্লাহর মহাসচিব লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং বাইরের শক্তির খবরদারি, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, তারা ইসরাইলি-আমেরিকান পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন এবং এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন। নাঈম কাসেম আরও উল্লেখ করেন, লেবানন সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যায়, তবে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের পাশে থাকবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়েও মন্তব্য করেন কাসেম। তিনি এই সমঝোতায় পৌঁছানোকে আমেরিকা ও ইসরাইলের পরাজয়ের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, ইরান নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পারার ফলেই এই সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের পরাজয়কে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা মহিউদ্দিনের মৃত্যু

লেবানন থেকে ইসরাইলের শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি হিজবুল্লাহ মহাসচিবের

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ইসরাইলকে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।

নাঈম কাসেম তার বক্তব্যে বলেন, ইসরাইল কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না, বরং তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো লেবাননকে গ্রাস করা এবং দেশটিকে পুরোপুরি দখল করে নেওয়া। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহর সংযম কোনো দুর্বলতা ছিল না, বরং এটি ছিল ধৈর্যের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যা শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পথ খুলে দেবে। দীর্ঘ সহনশীলতাই বিজয়ের একমাত্র পথ এবং এটি অত্যাচারীর নিপীড়নকে ভেঙে চূর্ণ করে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মহাসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, লিটানি নদীর উত্তর অঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন প্রত্যাহারের পরেই কেবল অস্ত্রের বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় আসবে। নাঈম কাসেম দাবি করেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা, কিন্তু তারা সফলভাবে এই আগ্রাসন রুখে দিয়েছেন। তার মতে, ইসরাইলি দখলদারিত্বের ফলেই এই প্রতিরোধের জন্ম হয়েছে এবং তাদের যোদ্ধারা বর্তমানে আলী তাহের পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।

হিজবুল্লাহর মহাসচিব লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং বাইরের শক্তির খবরদারি, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, তারা ইসরাইলি-আমেরিকান পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন এবং এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন। নাঈম কাসেম আরও উল্লেখ করেন, লেবানন সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যায়, তবে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের পাশে থাকবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়েও মন্তব্য করেন কাসেম। তিনি এই সমঝোতায় পৌঁছানোকে আমেরিকা ও ইসরাইলের পরাজয়ের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, ইরান নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পারার ফলেই এই সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের পরাজয়কে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।