সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, গত আঠারো বছরে দেশের সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সকল সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঝিনাইদহে জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের পুরনো ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। দেশের হারিয়ে যাওয়া সুস্থধারার সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে ৪৮টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে, যা এই পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরাকীর্তি নিদর্শন পুনরুদ্ধারে খনন কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ সারাদেশে সরকারি পাবলিক লাইব্রেরিগুলো সচল করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বিলুপ্তপ্রায় ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, পুঁথিসাহিত্য, খনার বচন, লালন ফকিরের গান, জারি সারি গান এবং লোকগানের পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান ও সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান। মন্ত্রী অশালীন যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অশালীন নৃত্য বা অঙ্গভঙ্গির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা নতুনধারার সুস্থ ও ঐতিহ্যভিত্তিক যাত্রাপালা এবং লোকসংস্কৃতি চালুর বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছি।’
পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 






















