সারাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার তরুণ ও যুবসমাজকে গ্রাস করছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দিন দিন শিক্ষার্থীরাও এই সর্বনাশা নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে তাদের মধ্যে অসংলগ্ন আচরণ, স্মৃতিভ্রংশ, মানসিক দুর্বলতা এবং হতাশার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কেবল শহরাঞ্চলেই নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এখন মাদক সহজলভ্য। ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজার মতো পরিচিত মাদকের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের কুশ এবং সিসার মতো নতুন মাদকদ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। অভিজাত পরিবারের সন্তানরাও এই নতুন মাদকে আসক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষজ্ঞরা মাদকের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যর্থতা, হতাশা, গণবেকারত্ব, ফ্যাশন, সঙ্গদোষ, মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, আনন্দময় অনুভূতির আকাঙ্ক্ষা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং অজ্ঞতা মাদকাসক্তির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাশিদুল হক বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর প্রতিকারের জন্য সামাজিক আন্দোলন অপরিহার্য। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে চোরাচালানের মাধ্যমে নতুন নতুন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। যদিও সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে এর বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাত-দিন মাদক দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, মাদক ব্যবসায়ীরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও মাদকের অফার দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যারা মাদক থেকে মুক্তি পেতে চান, তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। তবে, দেশে বছরে কতজন মাদকাসক্ত সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব পাওয়া যায় না। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এসব রোগীকে একটি ডেটাবেজের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে, যাতে তাদের চিহ্নিত করে আরও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা যায়। এই ডেটাবেজ মাদকাসক্তদের পরবর্তী চিকিৎসায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























