ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন: চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মাত্র ৪৮.২৩% ব্যয়

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র ৪৮.২৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা অর্থবছর শেষ হতে চললেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্ধেক অর্থও খরচ করতে না পারার চিত্র তুলে ধরেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৩৫৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত এডিপির আকার দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছাড়াও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল অন্তর্ভুক্ত। জুলাই-মে সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা এবার প্রায় ১০ হাজার ২৪২ কোটি টাকা কম। এর আগের ২০২২-২৩ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যথাক্রমে এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং এক লাখ ৪৬ হাজার ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। অর্থাৎ, গত দুই বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আইএমইডির হিসাব মতে, গত দেড় দশকে জুলাই-মে সময়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার সেই হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অগ্রগতি। এমনকি করোনা মহামারীর সময় দীর্ঘ লকডাউনের বছরেও (২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৮.36 শতাংশ, যা বর্তমান হারের চেয়ে বেশি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন চিত্রও হতাশাজনক। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বাস্তবায়ন হার মাত্র ১২.২৩ শতাংশ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭.৮৭ শতাংশ, এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০.৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়, যেখানে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ২২.৫০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৫.৮৭ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা: সত্য ও মিথ্যার এক অসম লড়াইয়ের ইতিহাস

১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন: চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মাত্র ৪৮.২৩% ব্যয়

আপডেট সময় : ১২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র ৪৮.২৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা অর্থবছর শেষ হতে চললেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্ধেক অর্থও খরচ করতে না পারার চিত্র তুলে ধরেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৩৫৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত এডিপির আকার দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছাড়াও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল অন্তর্ভুক্ত। জুলাই-মে সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা এবার প্রায় ১০ হাজার ২৪২ কোটি টাকা কম। এর আগের ২০২২-২৩ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যথাক্রমে এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং এক লাখ ৪৬ হাজার ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। অর্থাৎ, গত দুই বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আইএমইডির হিসাব মতে, গত দেড় দশকে জুলাই-মে সময়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার সেই হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অগ্রগতি। এমনকি করোনা মহামারীর সময় দীর্ঘ লকডাউনের বছরেও (২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৮.36 শতাংশ, যা বর্তমান হারের চেয়ে বেশি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন চিত্রও হতাশাজনক। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বাস্তবায়ন হার মাত্র ১২.২৩ শতাংশ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭.৮৭ শতাংশ, এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০.৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়, যেখানে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ২২.৫০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৫.৮৭ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।