বাংলাদেশের রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে যারা নতুন চিন্তার উন্মোচন ঘটিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক ও লেখক আখতার-উল-আলম। বাঙালি জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রসারে কলম হাতে তুলে নেওয়া অগ্রপথিকদের একজন হিসেবে তিনি পরিচিত।
পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আখতার-উল-আলম একপর্যায়ে দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক হিসেবে ‘স্থান-কাল-পাত্র’ শিরোনামে ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে উপসম্পাদকীয় লিখতে শুরু করেন। সেই সময় দৈনিক ইত্তেফাকের পাঠক মহলে সাপ্তাহিক ‘লুব্ধক’-এর কলাম পড়ার জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখা যেত, যা তাকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
১৯৩৯ সালের ২২ জুন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আখতার-উল-আলম। শিক্ষাজীবনের শুরু স্থানীয় বলদিপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, এরপর রাণীপুকুর হাইস্কুল, রংপুর কারমাইকেল কলেজ এবং সরকারি ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা ও অনাড়ম্বর।
১৯৬০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন মুসলিম বাংলার অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক আজাদ-এর মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়। তিনি আজাদ গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সের মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর তত্ত্বাবধানে দৈনিক আজাদ-এর সম্পাদকীয় ও কলাম লেখার দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক মুজিবুর রহমান খাঁর আহ্বানে তিনি অধুনালুপ্ত দৈনিক পয়গাম-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ২০১০ সালের ২৪ জুন ৭১ বছর বয়সে ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























