একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও অস্তিত্বের জন্য দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে এমন কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে যা দলীয় বা সময়কালের সীমা অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় দর্শনে পরিণত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘পূর্বমুখী পররাষ্ট্রনীতি’ বা ‘লুক ইস্ট’ কৌশল তেমনই একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় দর্শন, যার প্রভাব আজও বাংলাদেশের কূটনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে স্পষ্ট। অর্ধশতাব্দী আগে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে যে কৌশলগত চিন্তার বীজ বপন করা হয়েছিল, বর্তমান সময়ে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর সেই দর্শনেরই একটি আধুনিক ও বাস্তবমুখী প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিশীলতা এবং ভূ-অর্থনৈতিক উপযোগিতার নিরিখে এই সফর শুধু একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে এক যুগান্তকারী মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর গভীর প্রতীকী, মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত বার্তা বহন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়া এবং বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক মহাপ্রতিবেশী চীনকে বেছে নেওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একমুখী নির্ভরতার বৃত্ত থেকে বের করে এনে একটি সুপরিকল্পিত, বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দিকে ধাবিত করার সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত। এই সফর স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ঢাকা তার জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক অক্ষের অন্ধ অনুসারী হবে না, বরং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) বজায় রাখবে।
১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গভীর প্রজ্ঞা দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে, দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশকে বহুমাত্রিক ও বহুমুখী কূটনৈতিক পরিসরে যুক্ত করতে হবে। তাঁর এই দূরদর্শী চিন্তা ও পদক্ষেপই পরবর্তীতে ‘লুক ইস্ট’ নীতির ভিত্তি স্থাপন করে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























