ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

পেশোয়ারের কিসসাখানি বাজার: যেখানে গল্প বুনতেন কবি ফররুখ আহমদ

প্রাচীন পেশোয়ার, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী, একসময় ছিল ভারত ও মধ্য এশিয়ার প্রধান বাণিজ্যপথের কেন্দ্র। আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে সম্রাট বাবর, নাদির শাহ, আহমদ শাহ আবদালির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরা এই পথেই উপমহাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। ‘ফুলের শহর’ নামেও পরিচিত এই জনপদ তার বিখ্যাত চাপলি কাবাব, পেশোয়ারি বিফ পোলাও, ঐতিহ্যবাহী বাদাম ও ড্রাই ফ্রুটসের জন্য সুপরিচিত। এখানকার হস্তশিল্প, বিশেষ করে ‘পেশোয়ারি চপ্পল’ এবং বিভিন্ন ফল ও শরবতের দোকান বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে।

শহরের ঐতিহাসিক চক ইয়াদগার, ঘণ্টাঘর এবং বালাহিসার দুর্গের কাছে অবস্থিত ‘কিসসাখানি বাজার’ পেশোয়ারের অন্যতম পরিচিত ও জনাকীর্ণ স্থান। এই বাজারটি মধ্যযুগে দিল্লি, অমৃতসর, লাহোর, কাবুল, দুশানবে, আশগাবাত ও তাশখন্দের বণিক, মুসাফির এবং যোদ্ধাদের বাণিজ্য কাফেলার জন্য সরাইখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তারা ঘোড়া ও উটবোঝাই পণ্য নিয়ে কাবুলি গেটের সরাইখানায় তাঁবু ফেলতেন এবং পরদিন কিসসাখানির বাজারে বেচাকেনা করতেন।

শীতের রাতে সরাইখানার চুলোর পাশে পেশাদার গল্পকাররা কাহওয়ায় চুমুক দিতে দিতে গল্পের আসর জমাতেন। বণিক-যোদ্ধারা আগুনের চারপাশে বসে সফর, যুদ্ধ এবং প্রেমের আখ্যানে মগ্ন থাকতেন। এই ঐতিহ্যবাহী কিসসাখানি বাজার নিয়ে কল্পনার ওপর ভর করে একটি দীর্ঘ সুখপাঠ্য কবিতা লিখেছিলেন ঐতিহ্যবাদী রোমান্টিক ধারার কবি ফররুখ আহমদ। তার এই ফিকশনধর্মী কাব্যকর্ম ইতিহাসের গভীর পাঠ ও সূক্ষ্ম জীবনবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কিসসাখানি বাজার তার এই আশ্চর্য ও রহস্যময় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে, যা মানুষের জীবন-মৃত্যুর মতোই বিচিত্র কাহিনি ধারণ করে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিকার বাড়ির উঠানে মিলল লাশ, আটক ৪

পেশোয়ারের কিসসাখানি বাজার: যেখানে গল্প বুনতেন কবি ফররুখ আহমদ

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

প্রাচীন পেশোয়ার, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী, একসময় ছিল ভারত ও মধ্য এশিয়ার প্রধান বাণিজ্যপথের কেন্দ্র। আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে সম্রাট বাবর, নাদির শাহ, আহমদ শাহ আবদালির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরা এই পথেই উপমহাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। ‘ফুলের শহর’ নামেও পরিচিত এই জনপদ তার বিখ্যাত চাপলি কাবাব, পেশোয়ারি বিফ পোলাও, ঐতিহ্যবাহী বাদাম ও ড্রাই ফ্রুটসের জন্য সুপরিচিত। এখানকার হস্তশিল্প, বিশেষ করে ‘পেশোয়ারি চপ্পল’ এবং বিভিন্ন ফল ও শরবতের দোকান বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে।

শহরের ঐতিহাসিক চক ইয়াদগার, ঘণ্টাঘর এবং বালাহিসার দুর্গের কাছে অবস্থিত ‘কিসসাখানি বাজার’ পেশোয়ারের অন্যতম পরিচিত ও জনাকীর্ণ স্থান। এই বাজারটি মধ্যযুগে দিল্লি, অমৃতসর, লাহোর, কাবুল, দুশানবে, আশগাবাত ও তাশখন্দের বণিক, মুসাফির এবং যোদ্ধাদের বাণিজ্য কাফেলার জন্য সরাইখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তারা ঘোড়া ও উটবোঝাই পণ্য নিয়ে কাবুলি গেটের সরাইখানায় তাঁবু ফেলতেন এবং পরদিন কিসসাখানির বাজারে বেচাকেনা করতেন।

শীতের রাতে সরাইখানার চুলোর পাশে পেশাদার গল্পকাররা কাহওয়ায় চুমুক দিতে দিতে গল্পের আসর জমাতেন। বণিক-যোদ্ধারা আগুনের চারপাশে বসে সফর, যুদ্ধ এবং প্রেমের আখ্যানে মগ্ন থাকতেন। এই ঐতিহ্যবাহী কিসসাখানি বাজার নিয়ে কল্পনার ওপর ভর করে একটি দীর্ঘ সুখপাঠ্য কবিতা লিখেছিলেন ঐতিহ্যবাদী রোমান্টিক ধারার কবি ফররুখ আহমদ। তার এই ফিকশনধর্মী কাব্যকর্ম ইতিহাসের গভীর পাঠ ও সূক্ষ্ম জীবনবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কিসসাখানি বাজার তার এই আশ্চর্য ও রহস্যময় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে, যা মানুষের জীবন-মৃত্যুর মতোই বিচিত্র কাহিনি ধারণ করে আছে।