বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে শুরু হওয়া বাবা দিবস মা ও বাবার পরিপূরক সম্পর্ককে তুলে ধরে। সন্তানের প্রতি বাবার দায়িত্বশীলতা এবং পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই বিশেষ দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। ২০২৬ সালে ২১ জুন বাবা দিবস উদযাপিত হবে, যা বাবাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি অনন্য সুযোগ।
এই দিনটিকে আরও সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করে তুলতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। বাবার পছন্দের ঘড়ি, পোশাক বা দরকারি গ্যাজেট উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। বাবাকে নিয়ে বাইরে খেতে যাওয়া অথবা তার প্রিয় খাবার নিজ হাতে রান্না করে চমকে দেওয়াও একটি দারুণ পরিকল্পনা। এছাড়া, বাবার সঙ্গে পুরোনো দিনের গল্প করা, তার পছন্দের সিনেমা দেখা কিংবা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া স্মৃতির পাতায় নতুন আনন্দ যোগ করতে পারে।
প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা এক অমূল্য সম্পদ, জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ বাবাকে বটবৃক্ষের সঙ্গে, কেউবা আকাশের বিশালতা বা সমুদ্রের গভীরতার সঙ্গে তুলনা করেন। বাবা মানেই আস্থা, ভরসা আর পরম নির্ভরতা; এমন এক বৃক্ষ যা ছায়া দেয়, আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং মনে শক্তি ও সাহস জোগায়। সন্তানের কাছে বাবা চিরন্তন শক্তির উৎস। বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রতিদিনের, কোনো বিশেষ দিনের সীমাবদ্ধতা এতে নেই। যদিও বাবা-মায়ের জন্য নির্দিষ্ট একটি দিন পালিত হয়, তবুও প্রতিটি দিনই সন্তানের জন্য বাবা দিবস ও মা দিবস।
বাবার স্মৃতি নিয়ে অনেকে মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখেন। আমার মনেও কত টুকরো টুকরো স্মৃতি আর না বলা কথা ভিড় করে। তবে আমার কথাগুলো একটু ভিন্ন। বাবাকে হারানোর পর আমি বুঝেছি শূন্যতা কী। তাই প্রতিটি বাবা দিবস আমার সামনে ব্যথার পাহাড় হয়ে আসে। আমার মাথার ওপর কোনো বটবৃক্ষ নেই, আকাশের বিশালতাও আর অনুভব করতে পারি না। অনুভূতির দরজায় বাবা শুধু কড়া নেড়ে যান, আর নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়। দিন যত যাচ্ছে, বাবার শূন্যতা তত গভীর হচ্ছে। মনের এই চাপা কষ্ট কারও কাছে ব্যক্ত করা হয়নি, পাছে মা কষ্ট পান। তাই নীরবে এই ব্যথাভার বয়ে চলেছি, প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করছি বাবা ছাড়া একটি মেয়ের জীবন কতটা কঠিন হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























