ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

কাতার ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক চালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

দীর্ঘ কয়েক মাসের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফ্রান্সের মাটিতে যুদ্ধ স্থগিতের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি সম্পাদনে মূল মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে পাকিস্তানও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। পাকিস্তান একটি কূটনৈতিক ফ্রন্ট গঠন করে তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিশরকে সঙ্গে নিলেও, তারা মূলত কাতারের অনুসৃত নীতি ও কৌশলই ব্যবহার করেছে। কাতার তার দুই পক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান অনন্য সম্পর্ক ও যোগাযোগের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে কাতারি প্রতিনিধিদল দুইবার তেহরান সফর করে এবং ১৭ ঘণ্টার তীব্র আলোচনার পর গত বুধবার চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, এই চুক্তিতে তাদের সম্পৃক্ততা অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করেছে। বর্তমান যুদ্ধের আগে ওমান ও কাতার যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েকটি আলোচনার আয়োজন করেছিল, যেখানে কাতার মূলত বার্তা আদান-প্রদানের কাজটি করত। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে কাতার, বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইরানি হামলায় দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা পুনরুদ্ধার করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও, গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে তারা আবারও আলোচনায় ফিরে আসে। মে মাসের শেষের দিকে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করে, যা চুক্তির পথ সুগম করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ল মাদরাসা, প্রাণ হারালেন ৮ শিক্ষার্থী

কাতার ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক চালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক মাসের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফ্রান্সের মাটিতে যুদ্ধ স্থগিতের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি সম্পাদনে মূল মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে পাকিস্তানও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। পাকিস্তান একটি কূটনৈতিক ফ্রন্ট গঠন করে তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিশরকে সঙ্গে নিলেও, তারা মূলত কাতারের অনুসৃত নীতি ও কৌশলই ব্যবহার করেছে। কাতার তার দুই পক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান অনন্য সম্পর্ক ও যোগাযোগের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে কাতারি প্রতিনিধিদল দুইবার তেহরান সফর করে এবং ১৭ ঘণ্টার তীব্র আলোচনার পর গত বুধবার চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, এই চুক্তিতে তাদের সম্পৃক্ততা অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করেছে। বর্তমান যুদ্ধের আগে ওমান ও কাতার যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েকটি আলোচনার আয়োজন করেছিল, যেখানে কাতার মূলত বার্তা আদান-প্রদানের কাজটি করত। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে কাতার, বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইরানি হামলায় দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা পুনরুদ্ধার করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও, গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে তারা আবারও আলোচনায় ফিরে আসে। মে মাসের শেষের দিকে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করে, যা চুক্তির পথ সুগম করে।