ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; আগাম সতর্কতায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব

টানা চার দিনের অতিভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে জনজীবন চরমভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, নদনদীর পানি বৃদ্ধি এবং সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তবে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ১ দশমিক ২৬ মিটার (১২৬ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার আবু আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পাকা দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ায় বাসিন্দারা আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। নিপুণ বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া ও সুমন বড়ুয়ার পরিবার পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পৌর শহরের কসাইপাড়া এলাকায় একটি বড় পাহাড়ধসে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর পড়ে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অন্যদিকে, থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগানপাড়া এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-থানচি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, লেমুছড়ি-দোছড়ি সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এছাড়া তুমব্রু এলাকায় পানিবন্দি ৮০টি পরিবারকে ত্রাণ-সহায়তা এবং আরও ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, চাল ও ডাল বিতরণ করা হয়েছে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম জানান, প্রবল বর্ষণে গাছ উপড়ে পড়ে উপজেলার দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ল মাদরাসা, প্রাণ হারালেন ৮ শিক্ষার্থী

প্রবল বর্ষণে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; আগাম সতর্কতায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা চার দিনের অতিভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে জনজীবন চরমভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, নদনদীর পানি বৃদ্ধি এবং সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তবে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ১ দশমিক ২৬ মিটার (১২৬ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার আবু আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পাকা দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ায় বাসিন্দারা আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। নিপুণ বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া ও সুমন বড়ুয়ার পরিবার পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পৌর শহরের কসাইপাড়া এলাকায় একটি বড় পাহাড়ধসে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর পড়ে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অন্যদিকে, থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগানপাড়া এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-থানচি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, লেমুছড়ি-দোছড়ি সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এছাড়া তুমব্রু এলাকায় পানিবন্দি ৮০টি পরিবারকে ত্রাণ-সহায়তা এবং আরও ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, চাল ও ডাল বিতরণ করা হয়েছে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম জানান, প্রবল বর্ষণে গাছ উপড়ে পড়ে উপজেলার দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।