কয়েক দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধস ও সড়ক প্লাবনে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে, যার ফলে যাত্রী, পর্যটক ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রকৃতির এই আকস্মিক বিপর্যয়ে বান্দরবানের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বান্দরবান পৌর শহরের কসাইপাড়া এলাকায় একটি বিশাল পাহাড় ধসে পড়ে বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর। এতে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের উভয় পাশে শতাধিক বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে। এর মধ্য দিয়ে জেলা সদরের সঙ্গে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
একইভাবে, টানা বর্ষণে থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগানপাড়া এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-থানচি সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দুর্গম থানচি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া, জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভূমিধস ও সড়ক প্লাবিত হওয়ায় বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অচল হয়ে পড়ায় জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথভাবে ধসে পড়া মাটি অপসারণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং নতুন করে পাহাড় ধসের ঝুঁকির কারণে উদ্ধার কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। সতর্কতার সঙ্গে কাজ পরিচালনা করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পাশাপাশি, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানে বিভিন্ন সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
বান্দরবান পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যানচলাচল স্বাভাবিক করার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে গেলে ধসে পড়া মাটি অপসারণ এবং প্লাবিত সড়কের পানি নেমে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















