ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩, মামলা দায়ের

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরও একজনের লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এদিকে, সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তার ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে রয়েছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছেলে অনিক মিয়া (২০) নামের একজন এবং পরদিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) নামের একজন, এবং আজ শহীদ মিয়ার ছেলে লতিফ মোল্লার (৩২) লাশ উদ্ধার হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সি (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮), সুমন (৩৫), কাশেম (২৫), মোবারক হোসেন (৩৩), কাউছার আহমেদ (৩৭), লতিফ মোল্লা (৩২), মোস্তফা মিয়া (৬০)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়। অপরদিকে, পরদিন বুধবার বেলা তিনটার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে কাওসার আহমেদ ও লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩, মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরও একজনের লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এদিকে, সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তার ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে রয়েছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছেলে অনিক মিয়া (২০) নামের একজন এবং পরদিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) নামের একজন, এবং আজ শহীদ মিয়ার ছেলে লতিফ মোল্লার (৩২) লাশ উদ্ধার হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সি (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮), সুমন (৩৫), কাশেম (২৫), মোবারক হোসেন (৩৩), কাউছার আহমেদ (৩৭), লতিফ মোল্লা (৩২), মোস্তফা মিয়া (৬০)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়। অপরদিকে, পরদিন বুধবার বেলা তিনটার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে কাওসার আহমেদ ও লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার হয়।