ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

খাবার ছাড়াই ৩০ বছর বাঁচে জলভালুক: প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি

প্রকৃতি তার অপার বিস্ময় নিয়ে সবসময়ই আমাদের মুগ্ধ করে। এমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো জলভালুক বা টারডিগ্রেড (Tardigrade)। এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীটি খাবার না খেয়েও দীর্ঘ ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, যা শুনলে যেকোনো কারোরই অবাক হওয়ার কথা। শুধু তাই নয়, জলভালুকের আরও অনেক আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে যা প্রকৃতির বিস্ময়কে বাড়িয়ে তোলে।

জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগাস্ট এফ্রাইম গোজ ১৭৭৩ সালে সর্বপ্রথম জলভালুক আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ইতালিয়ান বিজ্ঞানী লাজ্জারো স্পাল্লানজানি প্রাণীটির লাতিন নাম দেন Tardigrada, যার অর্থ ‘ধীর পদচারী’। এদের আটটি পা থাকলেও এরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র, কেবল মাইক্রোস্কোপের নিচে এদের দেখা যায়। এরা মূলত পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকলেও চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

জলভালুকের টিকে থাকার ক্ষমতা এখানেই শেষ নয়। এরা শূন্য ডিগ্রি থেকে হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে, এমনকি মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশেও এরা টিকে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, খাদ্য সংকটের সময় এদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া প্রায় থেমে যায়, যা এদের দীর্ঘকাল বিনা খাদ্যে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

সাধারণত ০.৫ মিলিমিটার (০.০২ ইঞ্চি) পর্যন্ত বড় হওয়া এই প্রাণীটি পৃথিবীর প্রায় সব পরিবেশে বাস করে। ডোবা-নালা, নদী-সমুদ্র থেকে শুরু করে স্থলভাগ ও অন্তরীক্ষেও এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দুর্গম পাহাড়ের চূড়া, গভীর সমুদ্র, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট, অ্যান্টার্কটিকা এবং এমনকি উচ্চমাত্রার বিকিরণযুক্ত অঞ্চলেও এদের দেখা মেলে।

জলভালুকের প্রায় ১ হাজার ৩০০টি পরিচিত প্রজাতি রয়েছে এবং এরা একডিসোজোয়া সুপারফাইলামের অংশ। এরা মানুষের শরীরে জন্মায় না এবং মানুষের কোনো ক্ষতিও করে না। প্রকৃতির এই আশ্চর্য সৃষ্টি বিজ্ঞানীদের কাছে আজও গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ‘দেশ বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না’, আশ্বাস উপদেষ্টার

খাবার ছাড়াই ৩০ বছর বাঁচে জলভালুক: প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি

আপডেট সময় : ০২:২৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

প্রকৃতি তার অপার বিস্ময় নিয়ে সবসময়ই আমাদের মুগ্ধ করে। এমনই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো জলভালুক বা টারডিগ্রেড (Tardigrade)। এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীটি খাবার না খেয়েও দীর্ঘ ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, যা শুনলে যেকোনো কারোরই অবাক হওয়ার কথা। শুধু তাই নয়, জলভালুকের আরও অনেক আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে যা প্রকৃতির বিস্ময়কে বাড়িয়ে তোলে।

জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগাস্ট এফ্রাইম গোজ ১৭৭৩ সালে সর্বপ্রথম জলভালুক আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ইতালিয়ান বিজ্ঞানী লাজ্জারো স্পাল্লানজানি প্রাণীটির লাতিন নাম দেন Tardigrada, যার অর্থ ‘ধীর পদচারী’। এদের আটটি পা থাকলেও এরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র, কেবল মাইক্রোস্কোপের নিচে এদের দেখা যায়। এরা মূলত পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকলেও চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

জলভালুকের টিকে থাকার ক্ষমতা এখানেই শেষ নয়। এরা শূন্য ডিগ্রি থেকে হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে, এমনকি মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশেও এরা টিকে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, খাদ্য সংকটের সময় এদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া প্রায় থেমে যায়, যা এদের দীর্ঘকাল বিনা খাদ্যে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

সাধারণত ০.৫ মিলিমিটার (০.০২ ইঞ্চি) পর্যন্ত বড় হওয়া এই প্রাণীটি পৃথিবীর প্রায় সব পরিবেশে বাস করে। ডোবা-নালা, নদী-সমুদ্র থেকে শুরু করে স্থলভাগ ও অন্তরীক্ষেও এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দুর্গম পাহাড়ের চূড়া, গভীর সমুদ্র, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট, অ্যান্টার্কটিকা এবং এমনকি উচ্চমাত্রার বিকিরণযুক্ত অঞ্চলেও এদের দেখা মেলে।

জলভালুকের প্রায় ১ হাজার ৩০০টি পরিচিত প্রজাতি রয়েছে এবং এরা একডিসোজোয়া সুপারফাইলামের অংশ। এরা মানুষের শরীরে জন্মায় না এবং মানুষের কোনো ক্ষতিও করে না। প্রকৃতির এই আশ্চর্য সৃষ্টি বিজ্ঞানীদের কাছে আজও গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।