মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ইলিশ মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে বাধা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করে জেলেরা মাছ শিকার করছেন। এই ধরনের ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে তিনি কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬’-এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে অনেকগুলো পক্ষ জড়িত রয়েছে এবং তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় জাল তৈরির কারখানা রয়েছে এবং মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জাল জব্দ করা হলেও, এসব ক্ষতিকর জাল যাতে উৎপাদন না হয়, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মৎস্য খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বিভিন্ন সময়ে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয় এবং এই সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দেশের ১১টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে এই বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইলিশের মাইগ্রেটরি রুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাল কাটার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ জড়িত এবং এ বিষয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
জেলেদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলেরাও কৃষি কার্ডের আওতায় আসছেন এবং ইতোমধ্যে অনেক জেলে এই কার্ড পেয়েছেন। এছাড়া, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল নাগরিককে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং এজন্য গবেষণা প্রয়োজন। জীববৈচিত্র রক্ষা করে কাজ করতে হবে এবং দেশপ্রেমকে ধারণ করে সচেতন হলেই সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) নীলুফা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (মৎস্য অনুবিভাগ) সৈয়দা নওয়ারা জাহান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক (ইলিশ ব্যবস্থাপনা) আবুল কালাম আজাদ।
রিপোর্টারের নাম 




















