জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে বহুল আলোচিত ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রকল্প। এর আগে বিগত সরকারের শেষ সময়ে প্রকল্পটি ফেরত পাঠানো হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব বিবেচনায় পুনরায় তা একনেক টেবিলে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় এই প্রকল্পগুলো উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচ্য সূচিতে তিনটি নতুন প্রকল্প এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প—ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন, করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালীতে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও সভায় উত্থাপন করা হবে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে এই উদ্যোগ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে অর্থায়ন ও প্রশাসনিক জটিলতায় এর অগ্রগতি থমকে ছিল। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এই প্রকল্পের সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগের মতো অবকাঠামোগত কাজগুলো সম্পন্ন করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই প্রকল্পের অনুমোদন দেশের শিল্পায়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























