যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা থানা এলাকা থেকে রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ না করে টানা দুই রাত থানায় অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে অধস্তন কর্মকর্তারা ওই দুই নেতার পায়ে গুলি করেন। নিষ্ঠুরতার এখানেই শেষ নয়, গুলিবিদ্ধ ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল, যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরবর্তীতে দুই নেতারই পা কেটে ফেলতে হয়।
বর্তমানে এই মামলার তিন আসামি—তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক কারাগারে রয়েছেন এবং আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে সাবেক এসপি আনিসুর রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। এর আগে গত ২০ এপ্রিল আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে আজ সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঘটনার আট বছর পর ন্যায়বিচারের পথ সুগম হলো।
রিপোর্টারের নাম 
























