স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের স্টোরেজ ভর্তি হয়ে গেলে আমরা সাধারণত অপ্রয়োজনীয় ছবিগুলো ডিলিট করে দিই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ডিলিট করার পর ছবিগুলো আসলে কোথায় যায়? এগুলো কি চিরতরে মুছে যায়, নাকি ফোনের ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে থাকে?
প্রথমত, যখন আপনি কোনো ছবি ডিলিট করেন, সেটি সরাসরি আপনার ফোন বা কম্পিউটারের ‘ট্র্যাশ’ বা ‘রিসাইকেল বিন’ ফোল্ডারে চলে যায়। কম্পিউটার সিস্টেমে এটি ‘রিসাইকেল বিন’ নামে পরিচিত, আর অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে এটি ‘ট্র্যাশ’ বা ‘রিসেন্টলি ডিলিটেড’ ফোল্ডার হিসেবে থাকে। সাধারণত, এই ফোল্ডারে থাকা ছবিগুলো ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। এই সময়ের মধ্যে আপনি চাইলে যেকোনো ছবি বা ফাইল সহজেই পুনরুদ্ধার (Restore) করতে পারেন। বর্তমানে অনেকেই ছবি সংরক্ষণের জন্য গুগল ফটোস বা আইক্লাউড ফটোসের মতো ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহার করেন, যা এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, ৩০ বা ৬০ দিন পর যখন ছবিগুলো ট্র্যাশ বা রিসাইকেল বিন থেকে মুছে যায়, তখন কী হয়? অনেকেই মনে করেন, এবার বুঝি আর ছবিগুলো পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সত্যিটা হলো, এটি পুরোপুরি সত্য নয়। আপনার কম্পিউটার বা ফোনের স্টোরেজকে একটি বিশাল আলমারির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যেখানে আপনার ছবি বা ফাইলগুলো হলো কাপড়। এই আলমারির একটি ‘ইনডেক্স’ বা ‘ক্যাটালগ’ থাকে, যা বলে দেয় কোন ফাইলটি কোথায় সংরক্ষিত আছে। যখন আপনি কোনো ছবি ‘পার্মানেন্টলি ডিলিট’ করেন, অপারেটিং সিস্টেম আসলে মূল ডেটাটি মুছে ফেলে না। এটি কেবল ইনডেক্স থেকে ওই ছবির ঠিকানা বা ‘পয়েন্টার’ সরিয়ে দেয়। টেকনিক্যালি একে ফাইল অ্যালোকেশন টেবিল (FAT) বা NTFS/APFS সিস্টেম থেকে নাম কেটে দেওয়া বলা হয়। ফোন তখন ধরে নেয় যে ওই ছবিটি আর নেই এবং ছবির মেমোরি স্থানটিকে ‘ফ্রি’ বা ‘খালি’ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু ছবির আসল ডেটা (বাইনারি কোড) আগের মতোই সেখানে থেকে যায়, যতক্ষণ না সেই স্থানটি নতুন কোনো ডেটা দ্বারা পূর্ণ হয়। তাই, কিছু বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে এই মুছে ফেলা ছবিগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে, যদি সেই স্থানটি নতুন ডেটা দিয়ে ওভাররাইট না হয়ে থাকে।
রিপোর্টারের নাম 
























