ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে আলো ছড়ালেন ইরানকুন্ডা: সকারুদের নতুন ইতিহাস

তানজানিয়ার এক শরণার্থী শিবির থেকে উঠে আসা নেস্টরি ইরানকুন্ডা নামের এক তরুণ তার অদম্য স্বপ্নকে সত্যি করে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইতিহাস গড়েছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড সম্প্রতি তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তার দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করে সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ স্কোরার হিসেবে নিজের নাম লেখান। একইসঙ্গে তিনি প্রথম বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে গোল করার গৌরব অর্জন করেন।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের মতো ইউরোপীয় জায়ান্ট ক্লাব ছাড়ার এক অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের গল্প। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড থেকে জার্মানির অন্যতম সফল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে ইরানকুন্ডা সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। সেখানে হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এই অনিয়মিত খেলার বিষয়টিই তার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার স্বপ্নকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েন।

বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে গত গ্রীষ্মে ইরানকুন্ডা একটি বড় ঝুঁকি নেন। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ফুটবল পরাশক্তি ছেড়ে তিনি নিয়মিত খেলার আশায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন। এই কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।”

ওয়াটফোর্ডের হয়ে ৪২ ম্যাচে মাঠে নেমে চারটি গোল এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের ফর্মের প্রমাণ দেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে এক দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোল করেই তিনি তার অন্যতম বড় ফুটবল অনুপ্রেরণা টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। ম্যাচের পর তিনি জানান, টিম কাহিল ও লিওনেল মেসিই তার ফুটবল জীবনের মূল অনুপ্রেরণা। তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে তাকে ‘হুডিনি’ আখ্যা দিয়ে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে তুলনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩৩ লাখ টাকার ভারতীয় ফেনসিডিল ও ঔষধ জব্দ

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে আলো ছড়ালেন ইরানকুন্ডা: সকারুদের নতুন ইতিহাস

আপডেট সময় : ১২:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

তানজানিয়ার এক শরণার্থী শিবির থেকে উঠে আসা নেস্টরি ইরানকুন্ডা নামের এক তরুণ তার অদম্য স্বপ্নকে সত্যি করে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইতিহাস গড়েছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড সম্প্রতি তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তার দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করে সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ স্কোরার হিসেবে নিজের নাম লেখান। একইসঙ্গে তিনি প্রথম বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে গোল করার গৌরব অর্জন করেন।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের মতো ইউরোপীয় জায়ান্ট ক্লাব ছাড়ার এক অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের গল্প। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড থেকে জার্মানির অন্যতম সফল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে ইরানকুন্ডা সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। সেখানে হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এই অনিয়মিত খেলার বিষয়টিই তার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার স্বপ্নকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েন।

বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে গত গ্রীষ্মে ইরানকুন্ডা একটি বড় ঝুঁকি নেন। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ফুটবল পরাশক্তি ছেড়ে তিনি নিয়মিত খেলার আশায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন। এই কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।”

ওয়াটফোর্ডের হয়ে ৪২ ম্যাচে মাঠে নেমে চারটি গোল এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের ফর্মের প্রমাণ দেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে এক দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোল করেই তিনি তার অন্যতম বড় ফুটবল অনুপ্রেরণা টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। ম্যাচের পর তিনি জানান, টিম কাহিল ও লিওনেল মেসিই তার ফুটবল জীবনের মূল অনুপ্রেরণা। তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে তাকে ‘হুডিনি’ আখ্যা দিয়ে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে তুলনা করেন।