ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুদ্ধের আবহে বিশ্বকাপের মাঠে ইরান: রাজনীতি ও ফুটবলের টানাপোড়েন

“আমরা এখানে ভালো ফুটবল খেলতে এসেছি। মাঠের বাইরের কোনো বিতর্কে আমাদের মনোযোগ নেই। আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। ফুটবল আর রাজনীতি এক নয়।” বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগের দিন ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি এমন বার্তা দিলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। গত কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা জটিলতার মতো নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ইরান দল বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। মাঠে নামার আগেই যেন তারা সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। কিন্তু ম্যাচের আগের আলোচনায় ফুটবলের চেয়ে যুদ্ধ এবং রাজনীতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে হয়। ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। তবে, বিশ্বকাপে ইরানের অভিষেকের মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান সংঘাত অবসানে একটি স্থায়ী সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ায় যুদ্ধের আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।

তবে মাঠের বাইরের উত্তাপ এখনো পুরোপুরি থামেনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে ইরানের কট্টরপন্থী সরকারের বিরোধী প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভের ঘোষণা রয়েছে। এমনকি সরকারবিরোধী ব্যানার প্রদর্শিত হলে ইরান দল মাঠ ছেড়ে চলে যেতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে। এসব বিতর্ককে অবশ্য কোচ গালেনোয়ি পাত্তা দিতে চান না। তাঁর মতে, “প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সমস্যা আছে। সেগুলোর সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক নেই। আমরা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।”

এই বিশ্বকাপ তাই ইরানের জন্য কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক প্রতীকী লড়াই। যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই আজ তারা সবুজ ঘাসের মঞ্চে নামবে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড হলেও, ইরানের সবচেয়ে বড় লড়াই হয়তো মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও অনেক বেশি কিছু।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ নির্মাতাদের রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র: ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ নিয়ে আলোচনা

যুদ্ধের আবহে বিশ্বকাপের মাঠে ইরান: রাজনীতি ও ফুটবলের টানাপোড়েন

আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

“আমরা এখানে ভালো ফুটবল খেলতে এসেছি। মাঠের বাইরের কোনো বিতর্কে আমাদের মনোযোগ নেই। আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। ফুটবল আর রাজনীতি এক নয়।” বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগের দিন ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি এমন বার্তা দিলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। গত কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা জটিলতার মতো নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ইরান দল বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। মাঠে নামার আগেই যেন তারা সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। কিন্তু ম্যাচের আগের আলোচনায় ফুটবলের চেয়ে যুদ্ধ এবং রাজনীতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে হয়। ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। তবে, বিশ্বকাপে ইরানের অভিষেকের মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান সংঘাত অবসানে একটি স্থায়ী সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ায় যুদ্ধের আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।

তবে মাঠের বাইরের উত্তাপ এখনো পুরোপুরি থামেনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে ইরানের কট্টরপন্থী সরকারের বিরোধী প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভের ঘোষণা রয়েছে। এমনকি সরকারবিরোধী ব্যানার প্রদর্শিত হলে ইরান দল মাঠ ছেড়ে চলে যেতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে। এসব বিতর্ককে অবশ্য কোচ গালেনোয়ি পাত্তা দিতে চান না। তাঁর মতে, “প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সমস্যা আছে। সেগুলোর সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক নেই। আমরা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।”

এই বিশ্বকাপ তাই ইরানের জন্য কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক প্রতীকী লড়াই। যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই আজ তারা সবুজ ঘাসের মঞ্চে নামবে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড হলেও, ইরানের সবচেয়ে বড় লড়াই হয়তো মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও অনেক বেশি কিছু।